দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহজুড়ে ছিল মিশ্র চিত্র। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রধান সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল এবং লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। তবে বড় মূলধনী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় সামগ্রিক বাজার মূলধন প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা হ্রাস পেয়েছে।
সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন দিন বাজারে উত্থান এবং দুই দিন পতন দেখা যায়। এ সময় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ১৮৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৭৩টির দর কমেছে এবং ৩০টির মূল্য অপরিবর্তিত ছিল। সংখ্যাগতভাবে দরবৃদ্ধি পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি হলেও বাজার মূলধনের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বড় মূলধনের কিছু কোম্পানির শেয়ারদরের পতনের কারণে।
সপ্তাহ শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ১০ কোটি টাকায়। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এই পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৯২ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ২ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা।
তবে সূচকের ক্ষেত্রে ছিল ইতিবাচক অগ্রগতি। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে ৪৫ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বা প্রায় শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ বেড়েছে। এর মাধ্যমে বাজারে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশের আস্থার প্রতিফলন দেখা গেলেও বাজার মূলধনের পতন সামগ্রিক চিত্রকে কিছুটা ম্লান করেছে।
একই সময়ে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচকও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ডিএসই শরিয়াহ সূচক বেড়েছে ৫ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট। পাশাপাশি বাছাইকৃত মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকও সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
লেনদেনের ক্ষেত্রেও গত সপ্তাহে গতি ফিরেছে। প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ২৮৭ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। এতে বোঝা যায়, বাজেট-পরবর্তী সময়ে বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কিছুটা বেড়েছে।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল এনসিসি ব্যাংক। সপ্তাহজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারে মোট লেনদেন হয়েছে ১১১ কোটি টাকার বেশি, যা মোট সাপ্তাহিক লেনদেনের ২ দশমিক ১৬ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং এবং তৃতীয় স্থানে আইপিডিসি ফাইন্যান্স।
এ ছাড়া সর্বাধিক লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানের তালিকায় স্থান পেয়েছে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, জেনেক্স ইনফোসিস, পিপলস ইন্স্যুরেন্স, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ এবং বিডি থাই ফুড।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সূচক ও লেনদেন বৃদ্ধির ধারা ইতিবাচক হলেও বড় মূলধনের শেয়ারগুলোর মূল্যহ্রাস বাজার মূলধনের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে বাজারের প্রকৃত শক্তি মূল্যায়নে শুধু সূচকের উত্থান নয়, বাজার মূলধন ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার গতিপ্রকৃতিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা আগামী সপ্তাহগুলোতে বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরের গতিবিধির দিকে বিশেষ নজর রাখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

