সূচকের শক্তিশালী উত্থানে ইতিবাচক দিন পার করেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির ফলে বাজারে আস্থার কিছুটা প্রতিফলন দেখা গেলেও লেনদেনের পরিমাণে সেই গতি দেখা যায়নি। ফলে সূচক বাড়লেও টাকার অঙ্কে বাজারের লেনদেন কমেছে।
সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচক ৫১ দশমিক ০৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬০৫ পয়েন্টে পৌঁছায়। একই সময়ে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ১০ দশমিক ১৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ১৩৯ পয়েন্টে এবং ব্লু-চিপভিত্তিক ডিএস-৩০ সূচক ১৭ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১২৭ পয়েন্টে অবস্থান নেয়।
বাজারে এদিন মোট ৩৯৫টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৭৯টির দর বেড়েছে, ৫৫টির দর কমেছে এবং ৬১টির দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। সংখ্যার বিচারে দেখা যায়, বাজারে ক্রেতাদের প্রাধান্য ছিল স্পষ্ট, যা সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তবে সূচকের উত্থানের বিপরীতে লেনদেনের পরিমাণে কিছুটা শ্লথগতি লক্ষ্য করা গেছে। দিন শেষে মোট ৮২৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে এই পরিমাণ ছিল ৮৭৬ কোটি ৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে প্রায় ৪৮ কোটি টাকা কম লেনদেন হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সূচকের উত্থান সাধারণত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দেয়। কিন্তু লেনদেনের পরিমাণ কমে যাওয়ার অর্থ হলো বাজারে এখনও বড় ধরনের অংশগ্রহণ বা নতুন অর্থপ্রবাহ তৈরি হয়নি। ফলে সূচকের এই ঊর্ধ্বগতি কতটা টেকসই হবে, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক কার্যদিবসে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের ওপর।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে যেসব শেয়ারের দর তুলনামূলক কম ছিল, সেগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। একই সঙ্গে কিছু খাতভিত্তিক শেয়ারে নতুন করে ক্রয়চাপ তৈরি হওয়ায় বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে বাজারকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল অবস্থানে নিতে হলে লেনদেনের পরিমাণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
তাদের মতে, কেবল সূচক বৃদ্ধি নয়, বাজারে তারল্য বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণই পুঁজিবাজারের প্রকৃত শক্তির নির্দেশক। মঙ্গলবারের বাজারচিত্রে সূচকের উত্থান আশাব্যঞ্জক হলেও লেনদেন কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখনও সতর্ক অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
সব মিলিয়ে দিনের শেষে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক আবহ বজায় থাকলেও লেনদেনের গতি কমে যাওয়ায় বাজারের সামনে মিশ্র চিত্র ফুটে উঠেছে। এখন বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে সূচকের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা আগামী দিনগুলোতে আরও শক্তিশালী হয় কি না এবং তার সঙ্গে লেনদেনও বাড়ে কি না।

