সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থেকেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম—উভয় শেয়ারবাজারেই অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রধান সূচকগুলো ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে দিন শেষ করেছে। বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের পরিমাণ আবারও হাজার কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সপ্তাহের শুরুতে টানা দরপতনের পর শেষ তিন কার্যদিবসে ক্রয়চাপ বাড়তে থাকায় বাজারে আস্থার কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে। এর ফলে সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণেও ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে।
দিন শেষে ডিএসইতে ২৭৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৬৮টির দর কমেছে এবং ৫৪টির দর অপরিবর্তিত ছিল। বাজারে দর বৃদ্ধির এ প্রবণতা প্রায় সব শ্রেণির কোম্পানিতেই লক্ষ্য করা গেছে।
উচ্চ লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৪১টির শেয়ারের মূল্য বেড়েছে। অন্যদিকে ৩৩টির দাম কমেছে এবং ২৬টির দর অপরিবর্তিত ছিল। মাঝারি মানের কোম্পানিগুলোর মধ্যেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। এ শ্রেণির ৬৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, যেখানে মাত্র ৮টির দর কমেছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যেও ক্রেতাদের আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। এ গ্রুপের ৬৬টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। এছাড়া মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও দাম বৃদ্ধির হার ছিল উল্লেখযোগ্য।
দাম বাড়ার তালিকায় কোম্পানির সংখ্যা বেশি থাকায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬৫২ পয়েন্টে পৌঁছেছে। পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক সূচক এবং ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকও ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে লেনদেন শেষ করেছে।
লেনদেনের দিক থেকেও দিনটি ছিল উল্লেখযোগ্য। ডিএসইতে মোট ১ হাজার ১১০ কোটি ৭৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১৭০ কোটিরও বেশি। তিন কার্যদিবস পর আবারও লেনদেনের পরিমাণ হাজার কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করল।
বাজারে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারে। এছাড়া আইপিডিসি ফাইন্যান্স ও ন্যাশনাল ফিড মিলসও লেনদেনের শীর্ষে ছিল। উল্লেখযোগ্য লেনদেন হওয়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, ব্র্যাক ব্যাংক, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, মালেক স্পিনিং, বিডি থাই অ্যালুমেনিয়াম, এনসিসি ব্যাংক এবং প্রগতি ইন্স্যুরেন্স।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) ইতিবাচক প্রবণতা বজায় ছিল। বাজারটির সার্বিক সূচক উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৪০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৩টির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপরীতে ৬৯টির দর কমেছে এবং ৩৮টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৪০ কোটি টাকা বেশি লেনদেন হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, টানা কয়েক দিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে। তবে বাজারের এই গতি দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, তা নির্ভর করবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর। তারা মনে করছেন, ধারাবাহিক ইতিবাচক লেনদেন ও স্থিতিশীল সূচক বাজারকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে সহায়তা করতে পারে।

