সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। রোববার লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সব প্রধান সূচকই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশিরভাগ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার প্রতিফলন দেখা গেছে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, দিনশেষে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৬৬ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭১৯ পয়েন্টে পৌঁছেছে। একই সময়ে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ১৩ দশমিক ৩০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৫৬ পয়েন্টে। এছাড়া ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস-৩০ বেড়েছে ৩১ দশমিক ৪১ পয়েন্ট, যা লেনদেন শেষে ২ হাজার ১৬২ পয়েন্টে অবস্থান করে।
লেনদেনের পরিমাণেও ছিল ইতিবাচক পরিবর্তন। এদিন ডিএসইতে মোট ১ হাজার ৩৭১ কোটি ৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে যেখানে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১১০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, সেখানে একদিনের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ার অন্যতম ইঙ্গিত হিসেবে এই লেনদেন বৃদ্ধিকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
দিনভর মোট ৩৯৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, ১৩৩টির দর কমেছে এবং ৪৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। অর্থাৎ দর বৃদ্ধির তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দর কমা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক সূচকের একযোগে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থান এবং লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে বড় মূলধনী কোম্পানির শেয়ারে ক্রয়চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রধান সূচকগুলোতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
তাদের মতে, ধারাবাহিকভাবে লেনদেন বৃদ্ধি এবং অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়তে থাকলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে এই ইতিবাচক প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে হলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা, সুশাসন এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সূচক, লেনদেন এবং অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম—তিন ক্ষেত্রেই ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। ফলে নতুন সপ্তাহের শুরুতে দেশের পুঁজিবাজারে আশাবাদী পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

