শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের দুই প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে ভিন্নধর্মী চিত্র উঠে এসেছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ফনিক্স ফাইন্যান্সের লোকসান উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের আগের অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে লোকসান আরও বেড়েছে।
একই সঙ্গে দুটি প্রতিষ্ঠানেরই শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে, যা তাদের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রকাশিত আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে ফনিক্স ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৩ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৭ টাকা ৮১ পয়সা।
এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ৩ টাকা ৭৮ পয়সা কমেছে। শতাংশের হিসাবে লোকসান কমেছে প্রায় ৪৮ শতাংশ। যদিও লোকসান কমার এই প্রবণতা কোম্পানির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবুও প্রতিষ্ঠানটি এখনো লাভজনক অবস্থায় ফিরতে পারেনি।
আর্থিক প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ফনিক্স ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভিপিএস ঋণাত্মক ১০৬ টাকা ৪৯ পয়সায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ কোম্পানিটির দায়-দেনার তুলনায় সম্পদের অবস্থান এখনো দুর্বল।
অন্যদিকে প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের আর্থিক চিত্র তুলনামূলকভাবে আরও উদ্বেগজনক। কোম্পানিটির ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম নয় মাসে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ৮৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই লোকসানের পরিমাণ ছিল ১ টাকা ৬৯ পয়সা।
এর ফলে এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি লোকসান ১ টাকা ১৬ পয়সা বেড়েছে, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ কোম্পানিটির আর্থিক চাপ আগের তুলনায় আরও তীব্র হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাইম ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১ টাকা ৩৯ পয়সা। এটি ইঙ্গিত দেয় যে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ভিত্তি এখনো দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত দীর্ঘদিন ধরেই খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট, উচ্চ তহবিল ব্যয় এবং দুর্বল বিনিয়োগ পরিবেশের মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো ধারাবাহিকভাবে মুনাফায় ফিরতে পারছে না। এ অবস্থায় কোনো প্রতিষ্ঠানের লোকসান কমা ইতিবাচক সংকেত হলেও টেকসই উন্নতির জন্য আয় বৃদ্ধি, সম্পদের মানোন্নয়ন এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা, সুশাসন এবং কার্যকর ব্যবসায়িক পুনর্গঠন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

