দেশের পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার সূচকের ইতিবাচক অবস্থানের পাশাপাশি লেনদেনেও বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা গেছে। প্রধান দুই শেয়ারবাজার মিলিয়ে দিনের মোট লেনদেন ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করেছে, যা বাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৬১৪ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৫৭৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ১৩ লাখ টাকা।
বাজার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২ পয়েন্ট বেড়ে দিন শেষে ৫ হাজার ৭২২ পয়েন্টে অবস্থান করে। যদিও শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৫৬ পয়েন্টে নেমে এসেছে, তবে ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস-৩০ তিন পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৬৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
লেনদেনের পরিমাণেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। আগের কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৩৫১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। মঙ্গলবার সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৫৭৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকায়। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে লেনদেন প্রায় ২২২ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
দিনভর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ৩৯৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৪৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, ৯৪টির দাম কমেছে এবং ৫৪টির দর অপরিবর্তিত ছিল। ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি থাকায় বাজারের সামগ্রিক প্রবণতা ইতিবাচক অবস্থানেই ছিল।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও লেনদেন ও সূচক—দুই ক্ষেত্রেই উন্নতি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৯৮ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৪৫০ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে এদিন ২৬১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বেড়েছে, ৬৯টির দর কমেছে এবং ৪১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
লেনদেনের পরিমাণেও চট্টগ্রামের বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। মঙ্গলবার সেখানে মোট ৪১ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল ৩৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। ফলে একদিনের ব্যবধানে লেনদেন প্রায় ৭ কোটি টাকা বেড়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে লেনদেনের ধারাবাহিক বৃদ্ধি এবং অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি, সূচকের স্থিতিশীল অগ্রগতি এবং ক্রয়চাপ অব্যাহত থাকলে বাজারে ইতিবাচক ধারা আরও কিছুদিন বজায় থাকতে পারে। তবে এই গতি ধরে রাখতে বাজারে স্বচ্ছতা, মানসম্পন্ন কোম্পানির অংশগ্রহণ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর তদারকি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

