সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা বজায় থাকলেও লেনদেনের গতি কমেছে। সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় দুই বাজারের প্রধান সূচক ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে লেনদেন শেষ করে। তবে সূচকের এই উত্থান সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কিছুটা কমে যাওয়ায় আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সূচকের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার কিছুটা প্রতিফলন হলেও লেনদেন কমে যাওয়া বাজারে এখনো পূর্ণমাত্রার সক্রিয়তা ফিরে না আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে বাজারে ইতিবাচক ধারা টেকসই হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করবে আগামী কয়েক কার্যদিবসের লেনদেন প্রবণতার ওপর।
সোমবার লেনদেনের শুরু থেকেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বাড়তে থাকে। দিনের প্রথম ভাগে যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়, তা শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এর ফলে দিন শেষে দরবৃদ্ধির তালিকায় স্থান পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দরপতনের তুলনায় বেশি ছিল এবং প্রধান সূচকও ইতিবাচক অবস্থানে দিন শেষ করে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, দিন শেষে ১৬৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৫৫টি প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে এবং ৭১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো মৌলভিত্তির এবং অন্তত ১০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যেও মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। এই শ্রেণির ৮৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, ৮৫টির দাম কমেছে এবং ২৯টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া মাঝারি মানের কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩০টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে ৩৫টির দর কমেছে এবং ১০টির শেয়ারের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
‘লভ্যাংশ না দেওয়া’ বা ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যেও দরবৃদ্ধির প্রবণতা ছিল। এ শ্রেণির ৫৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, ৩৫টির কমেছে এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১৭টির ইউনিটদর বেড়েছে, ৩টির কমেছে এবং ১৪টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭৯৯ পয়েন্টে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বাছাইকৃত ৩০টি কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৯২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসই শরিয়াহ সূচকও ৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ১৮৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সূচক বাড়লেও লেনদেনে গতি কমেছে। সোমবার ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪১৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। আগের কার্যদিবসে এই পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৩০ কোটি ৭ লাখ টাকা। ফলে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ১১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
দিনের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ারে। কোম্পানিটির ৩৭ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩০ কোটি ৩০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ারে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ৭১ লাখ টাকার।
লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আরও ছিল ড্রাগন সোয়েটার, আইটি কনসালটেন্টস, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্র্যাক ব্যাংক এবং জেনেক্স ইনফোসিস।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও ইতিবাচক ধারা বজায় ছিল। বাজারটির সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৭৩ পয়েন্ট বেড়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৫৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৫টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ৯৩টির কমেছে এবং ২৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
তবে সিএসইতেও লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সোমবার বাজারটিতে মোট ১৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যেখানে আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে এই বাজারে লেনদেন প্রায় ৫০ কোটি টাকার বেশি কমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধারা ইতিবাচক হলেও টেকসই পুনরুদ্ধারের জন্য লেনদেনের পরিমাণ বাড়া জরুরি। কারণ শক্তিশালী লেনদেন বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং বাজারে নতুন অর্থ প্রবাহের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই আগামী কয়েক কার্যদিবসে সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের গতিপ্রকৃতিও বাজারের সামগ্রিক অবস্থার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হবে।

