পুঁজিবাজারে গত কয়েক সপ্তাহের নেতিবাচক ধারার মধ্যেও আজ কিছুটা স্বস্তি এনেছে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর)। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) খোলার পর থেকেই সূচক বাড়তে শুরু করে। বিনিয়োগকারীরা নির্বাচিত বড় কোম্পানির শেয়ার কেনায় আগ্রহী হচ্ছেন। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সকাল ১১টার মধ্যে ২২ পয়েন্ট বা ০.৩৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৮২ পয়েন্টে।
বিনিয়োগকারীদের এই আগ্রহের পেছনে প্রধান কারণ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সাম্প্রতিক আশ্বাস। সোমবার তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাজারের স্বাভাবিক গতিবিধিতে হস্তক্ষেপ করবে না। বাজার নিজের শক্তিতে চলবে। পাশাপাশি তিনি জানান, জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় কোম্পানিগুলোকেও শিগগির পুঁজিবাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই ঘোষণা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়িয়েছে।
শুধু প্রধান সূচকই নয়, ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ ৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৩৩ পয়েন্টে। আর শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক বেড়েছে ৭ পয়েন্টে। বাজার মূলধনও কিছুটা বেড়েছে। লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫০ কোটি টাকায়।
ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২২৬টির দর বেড়েছে, ৮২টির দর কমেছে এবং ৭৭টি কোম্পানির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ বাজারের বিস্তৃতি ইতিবাচক।
মালেক স্পিনিং সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে, এই কোম্পানির ২৫ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
তবে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস পুরোপুরি ফিরেছে বলে মনে করছেন না বিশ্লেষকরা। জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনও বাজারের ওপর ছায়া ফেলছে। তবুও নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই আশ্বাস এবং ডাইরেক্ট লিস্টিং ও ডেরিভেটিভস চালুর মতো সংস্কার উদ্যোগ বাজারকে মন্দা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে বলে আশা করছেন তারা।

