ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি দীর্ঘমেয়াদি ঋণমানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ‘এএএ’ এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণমানের ক্ষেত্রে ‘এসটি-১’ রেটিং অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা, ঋণ পরিশোধে উচ্চ নির্ভরযোগ্যতা এবং সামগ্রিক আর্থিক অবস্থার মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই রেটিং দিয়েছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের প্রাসঙ্গিক আর্থিক ও গুণগত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ঋণমান নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ‘এএএ’ রেটিং একটি প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি এবং দায় পরিশোধের অত্যন্ত উচ্চ সক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়। একইভাবে স্বল্পমেয়াদি ‘এসটি-১’ রেটিংও স্বল্পমেয়াদি আর্থিক দায় পরিশোধে উচ্চ সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।
প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ আর্থিক ফলাফলেও ইতিবাচক অগ্রগতির চিত্র উঠে এসেছে। চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯ পয়সা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফায় উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
এ সময় শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ১ পয়সা।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ নগদ এবং ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ওই অর্থবছরে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ১১ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরের ৮৯ পয়সার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৮৫ পয়সা।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি ২০০৬ সালে শেয়ারবাজারে অন্তর্ভুক্ত হয়। বর্তমানে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৮০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৪২৯ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া রিজার্ভে রয়েছে ২৬০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। মোট শেয়ারের সংখ্যা ৪২ কোটি ৯৫ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫১টি।
শেয়ার ধারণের চিত্র অনুযায়ী, কোম্পানিটির ৪০ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে। সরকারের মালিকানায় রয়েছে ২১ দশমিক ৮৮ শতাংশ শেয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ২৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ শেয়ার। বাকি ১৪ দশমিক ১১ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সর্বোচ্চ ঋণমান বহাল থাকা এবং ধারাবাহিকভাবে মুনাফা বৃদ্ধির ধারা আইপিডিসি ফাইন্যান্সের আর্থিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে এটি বিনিয়োগকারী, আমানতকারী ও অন্যান্য অংশীজনের আস্থা বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

