শেয়ারবাজার থেকে রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৭৭৫ কোটি টাকা সংগ্রহের অনুমোদন পেয়েছে বেসরকারি খাতের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)। শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদনের ফলে ব্যাংকটি বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের কাছে নতুন শেয়ার ইস্যু করতে পারবে।
তবে অনুমোদনের পরই বাজারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে একটি বিষয়—বর্তমান বাজারদর অভিহিত মূল্যের নিচে থাকা সত্ত্বেও শেয়ারহোল্ডাররা নতুন শেয়ার কিনতে কতটা আগ্রহ দেখাবেন।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশনের সভায় ইউসিবির রাইট শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররা প্রতি দুটি শেয়ারের বিপরীতে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে একটি নতুন শেয়ার কেনার সুযোগ পাবেন। ব্যাংক কোম্পানি আইনে নির্ধারিত মূলধন পর্যাপ্ততার শর্ত পূরণ এবং ব্যাংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।
তবে রাইট শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ অনুমোদনের দিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ইউসিবির প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৯ টাকায়, যা রাইট শেয়ারের নির্ধারিত ১০ টাকার চেয়ে কম। অর্থাৎ বাজার থেকে একই শেয়ার কম দামে কেনা সম্ভব হলেও রাইট শেয়ারের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের বেশি মূল্য পরিশোধ করতে হবে। ফলে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররা এই সুযোগ গ্রহণ করবেন কি না, তা নিয়ে বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত রাইট শেয়ারের মূল্য বাজারদরের তুলনায় আকর্ষণীয় রাখা হয়, যাতে বিদ্যমান বিনিয়োগকারীরা নতুন শেয়ার কিনতে উৎসাহিত হন। কিন্তু বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে রাইট শেয়ার ইস্যু হলে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যেতে পারে। যদিও দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনায় অনেক শেয়ারহোল্ডার এ সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ইউসিবির শেয়ারের সর্বনিম্ন দাম ছিল ৮ টাকা ৪০ পয়সা এবং সর্বোচ্চ ১১ টাকা ৮০ পয়সা। বর্তমানে শেয়ারটির বাজারদর অভিহিত মূল্যের নিচে অবস্থান করায় রাইট শেয়ারের সফলতা অনেকটাই নির্ভর করবে বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর।
জানা গেছে, ইউসিবির পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের ২৯ মে রাইট শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেয়। একই বৈঠকে কৌশলগত বিনিয়োগকারীর কাছে সমঝোতার ভিত্তিতে আরও ৭৭৫ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রির নীতিগত সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়। পরে ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডাররা এসব প্রস্তাব অনুমোদন করেন।
ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাইট শেয়ারের অনুমোদনের মাধ্যমে মূলধন বৃদ্ধির পরিকল্পনার একটি বড় ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। এখন কৌশলগত বিনিয়োগকারী থেকে অতিরিক্ত মূলধন সংগ্রহের লক্ষ্যে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি হয়নি।
রাইট শেয়ারের মূল্য নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সংশয় প্রসঙ্গে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেছেন, নির্ধারিত দামে শেয়ার কিনবেন কি না, সেটি সম্পূর্ণ শেয়ারহোল্ডারদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তবে কোনো কারণে রাইট শেয়ারের সব অংশ বিক্রি না হলে আন্ডাররাইটাররা ১০ টাকা মূল্যেই অবিক্রীত শেয়ার কিনে নেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে। এই নিশ্চয়তার ভিত্তিতেই কমিশন রাইট শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দিয়েছে।
ইউসিবির রাইট শেয়ার ইস্যুর আন্ডাররাইটার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে রূপালী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক এবং লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের মালিকানাধীন চারটি মার্চেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান।
একই কমিশন সভায় ব্লু-ওয়েলথ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির ৩০ কোটি টাকা আকারের একটি বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের খসড়া প্রসপেক্টাসও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইউসিবির রাইট শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের সাড়া কেমন হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে নতুন শেয়ার ইস্যুর এই সিদ্ধান্তের সফলতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা ও অংশগ্রহণের ওপর।

