দেশের শেয়ারবাজারে টানা ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন দিন সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকায় অধিকাংশ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে। এর প্রভাবে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন এক সপ্তাহেই ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান মূল্যসূচকসহ গুরুত্বপূর্ণ সব সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও দৈনিক গড় লেনদেনে কিছুটা কমতির চিত্র দেখা গেছে।
সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে সপ্তাহজুড়ে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৮টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে ২৫১টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১২২টির দর কমেছে এবং ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বাড়ায় বাজারের সামগ্রিক মূলধনও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৩ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহের শেষে এই পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ৬ হাজার ৯৫ কোটি টাকা।
এর আগের সপ্তাহেও বাজার মূলধন ৫ হাজার ২১৩ কোটি টাকা বেড়েছিল। ফলে ধারাবাহিক দুই সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধনে মোট ১১ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা যোগ হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা ফিরে আসার ইঙ্গিত বহন করে।
বাজার মূলধনের পাশাপাশি মূল্যসূচকেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহের ব্যবধানে ৬০ দশমিক ২০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ০৫ শতাংশ বেড়েছে। আগের সপ্তাহে সূচকটির বৃদ্ধি ছিল ৯১ দশমিক ০৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৬১ শতাংশ।
ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচকও গত সপ্তাহে ২০ দশমিক ১৮ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেড়েছে। আগের সপ্তাহে এই সূচকের বৃদ্ধি ছিল ২৫ দশমিক ২৮ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ২১ শতাংশ।
একই সময়ে নির্বাচিত মৌলভিত্তিক কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১৫ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। এর আগের সপ্তাহে সূচকটি ৩০ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
যদিও সূচক ও বাজার মূলধন বেড়েছে, তবুও লেনদেনের গতি কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৩৮৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ১ হাজার ৪৩৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ফলে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন কমেছে ৫০ কোটি ৯ লাখ টাকা বা ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
লেনদেনের দিক থেকে সবচেয়ে সক্রিয় ছিল মালেক স্পিনিং। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ারে প্রতিদিন গড়ে ৪২ কোটি ৯২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা মোট দৈনিক গড় লেনদেনের ৩ দশমিক ১০ শতাংশ।
লেনদেনের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারে প্রতিদিন গড়ে ৩১ কোটি ২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা আইটি কনসালট্যান্টসের শেয়ারে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
এ ছাড়া সপ্তাহজুড়ে সর্বাধিক লেনদেন হওয়া শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে বেক্সিমকো, ব্র্যাক ব্যাংক, ফারইস্ট নিটিং, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং এবং সামিট এলায়েন্স পোর্ট।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বৃদ্ধি এবং বাজার মূলধনের ধারাবাহিক সম্প্রসারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থার ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তবে দৈনিক গড় লেনদেন কিছুটা কমে যাওয়ায় বাজারে নতুন বিনিয়োগ প্রবাহ আরও শক্তিশালী করতে নীতিগত স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।

