সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা বজায় ছিল। রোববার (১২ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সব প্রধান মূল্যসূচকের উত্থানের পাশাপাশি লেনদেনও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দিন শেষে ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৬৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। তবে একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক বাড়লেও লেনদেনের পরিমাণ আগের কার্যদিবসের তুলনায় কমেছে।
ডিএসইর বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৮৪৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৯২ পয়েন্টে এবং নির্বাচিত ৩০টি শেয়ার নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ২২ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২০০ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।
লেনদেনের পরিমাণেও উল্লেখযোগ্য গতি ফিরে এসেছে। এদিন ডিএসইতে মোট ১ হাজার ৬৬৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবস বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৪২৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ২৪১ কোটি টাকা।
দিনভর ডিএসইতে মোট ৩৯২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৫৬টির দাম কমেছে এবং ৩৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম বাড়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি থাকায় বাজারের সামগ্রিক প্রবণতা ইতিবাচক ছিল।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও মূল্যসূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৭৭ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৫৯২ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
সিএসইতে মোট ২৬৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৪টির দর বেড়েছে, ৯৪টির দর কমেছে এবং ১৭টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
তবে সূচক বাড়লেও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। এদিন সেখানে মোট ১০ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ফলে এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হওয়ায় সূচক ও লেনদেনে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তবে এই ধারা দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখতে বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।

