দেশের পুঁজিবাজারে টানা ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। সদ্য শেষ হওয়া সপ্তাহে ঢাকা ও চট্টগ্রাম—উভয় স্টক এক্সচেঞ্জেই সূচকের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে দৈনিক গড় লেনদেনও বেড়েছে, যা বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পাঁচ কার্যদিবসের লেনদেনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ৯৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৯০০ পয়েন্টে পৌঁছেছে। শতাংশের হিসাবে এ বৃদ্ধি প্রায় ২ শতাংশ। একই সময়ে নির্বাচিত কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস-৩০ বেড়ে ৫০ পয়েন্ট যোগ হয়ে ২ হাজার ২২৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচকও ১৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২০৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।
পুরো সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৭ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। দৈনিক গড়ে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৪৭৪ কোটি ৮৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা, যা আগের সপ্তাহের ১ হাজার ৩৮৩ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার তুলনায় ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, লেনদেন বৃদ্ধির এ প্রবণতা বাজারে সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ারই প্রতিফলন।
আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইতে ৩৮৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২১৬টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ১৫৫টির কমেছে এবং ১৮টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এছাড়া ২৩টি সিকিউরিটিজে কোনো লেনদেন হয়নি।
সূচক বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, লাফার্জহোলসিম, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইসলামী ব্যাংক এবং পূবালী ব্যাংকের শেয়ার। বড় মূলধনী এসব প্রতিষ্ঠানের দর বৃদ্ধির কারণে সামগ্রিক সূচকে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
খাতভিত্তিক লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ বীমা ও বস্ত্র খাত যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি লেনদেনের অংশীদার হয়েছে। প্রতিটি খাত ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ করে দখল করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতের অংশ ছিল ১০ দশমিক ৬ শতাংশ। প্রকৌশল খাত ৯ দশমিক ১ শতাংশ নিয়ে তৃতীয়, ব্যাংক খাত ৮ দশমিক ২ শতাংশ নিয়ে চতুর্থ এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত ৬ দশমিক ৬ শতাংশ নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।
সপ্তাহজুড়ে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে সিমেন্ট খাতে। এ খাতের গড় রিটার্ন ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ। এছাড়া মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৫ শতাংশ, চামড়া খাতে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ, ব্যাংক খাতে ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং পাট খাতে ৩ শতাংশ রিটার্ন এসেছে।
অন্যদিকে, কয়েকটি খাতে মূল্য সংশোধনের প্রবণতা দেখা গেছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে গড় রিটার্ন ২ শতাংশ কমেছে। এছাড়া কাগজ ও মুদ্রণ এবং ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে দশমিক ৬ শতাংশ, সাধারণ বীমা খাতে দশমিক ৪ শতাংশ এবং জীবন বীমা খাতে দশমিক ১ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন হয়েছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই ধরনের ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে সিএএসপিআই সূচক ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ৮১৫ পয়েন্টে পৌঁছেছে। একই সময়ে সিএসসিএক্স সূচক ২ দশমিক ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯ হাজার ৭০০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
তবে সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। আলোচ্য সপ্তাহে সেখানে মোট ১৬৯ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১৯০ কোটি টাকা। অর্থাৎ সূচক বাড়লেও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ৩৩৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৯৯টির বাজারদর বেড়েছে, ১১৮টির কমেছে এবং ২২টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, বড় মূলধনী শেয়ারের ইতিবাচক পারফরম্যান্স, ব্যাংক ও উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি এবং লেনদেনের ধারাবাহিক উন্নতি পুঁজিবাজারে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। তবে এ ধারা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে হলে বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানো, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

