দেশের শেয়ারবাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। সদ্য সমাপ্ত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার দিনই মূল্যসূচকের উত্থান হয়েছে। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ায় প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বাজার মূলধন এক সপ্তাহেই ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে টানা তিন সপ্তাহে বাজার মূলধনের মোট প্রবৃদ্ধি ১৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি হয়েছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২১৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৫৫টির দাম কমেছে এবং ১৮টির দর অপরিবর্তিত ছিল। ইতিবাচক প্রবণতায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ায় বাজারের সার্বিক চিত্রও শক্তিশালী হয়েছে।
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১০ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের শেষে ছিল ৭ লাখ ৩ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহে বাজার মূলধন বেড়েছে ৭ হাজার ৪৯ কোটি টাকা। এর আগের দুই সপ্তাহে বাজার মূলধন বেড়েছিল ১১ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা। ফলে তিন সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধনের মোট বৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা।
মূল্যসূচকেও ছিল শক্তিশালী ঊর্ধ্বগতি। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৯৬ দশমিক ৩০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়ে নতুন অবস্থানে পৌঁছেছে। এর আগের সপ্তাহে সূচকটি বেড়েছিল ৬০ দশমিক ২০ পয়েন্ট এবং তার আগের সপ্তাহে ৯১ দশমিক ৪ পয়েন্ট। সব মিলিয়ে টানা তিন সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক বেড়েছে ২৪৭ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট।
ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএসও ইতিবাচক ধারায় ছিল। সপ্তাহজুড়ে সূচকটি ১৭ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়েছে। আগের দুই সপ্তাহেও এ সূচকে উল্লেখযোগ্য উত্থান হয়েছিল।
একইভাবে বড় ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকও ভালো অবস্থানে ছিল। সপ্তাহের ব্যবধানে সূচকটি ৪৯ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের দুই সপ্তাহেও এ সূচকে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যায়।
লেনদেনের পরিমাণও আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। গত সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ডিএসইতে ১ হাজার ৪৭৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ১ হাজার ৩৮৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৯১ কোটি টাকা বা ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
সপ্তাহজুড়ে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে লাভেলো আইসক্রিমের শেয়ারে। কোম্পানিটির শেয়ারে প্রতিদিন গড়ে ৪৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ২ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল মালেক স্পিনিং, যার দৈনিক গড় লেনদেন ৩৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের শেয়ারে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আরও ছিল ব্র্যাক ব্যাংক, লাফার্জহোলসিম, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, বিএসআরএম স্টিল, বেক্সিমকো ফার্মা, ইস্টার্ন হাউজিং এবং মেঘনা ইন্স্যুরেন্স।
বিশ্লেষকদের মতে, টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে সূচক, বাজার মূলধন এবং লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে শুরু করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই ইতিবাচক প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে বাজারে সুশাসন, মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির ভালো আর্থিক ফলাফল এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

