শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করেছে। প্রিমিয়াম আয় বৃদ্ধি, বিমা দাবির পরিশোধ কমে আসা এবং পরিচালন নগদ প্রবাহের উন্নতির ফলে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৯ শতাংশ বেড়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রকাশিত কোম্পানির ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ১৯ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৫৮ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ইপিএস ৬১ পয়সা বা প্রায় ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) হিসাবেও কোম্পানিটি শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৯৮ পয়সা, যেখানে ২০২৫ সালের একই প্রান্তিকে তা ছিল ৪০ পয়সা। ফলে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস বেড়েছে ৫৮ পয়সা, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ১৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।
আর্থিক প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৯ টাকা ৮৬ পয়সা।
কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে প্রিমিয়াম আয় বৃদ্ধি এবং নেট ক্লেইম বা বিমা দাবি পরিশোধের পরিমাণ কমে যাওয়ায় মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ ছাড়া ব্যতিক্রমী ক্ষতি সংরক্ষণ এবং বিনিয়োগের মূল্য ওঠানামা সংরক্ষণ বৃদ্ধি পাওয়ায় কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্যও উন্নত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি প্রিমিয়াম আয় ও প্রিমিয়াম আমানতের পরিমাণ বাড়ায় শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উন্নতি করেছে বলে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সর্বশেষ আর্থিক ফলাফল থেকে বোঝা যায়, আন্ডাররাইটিং কার্যক্রমে ইতিবাচক অগ্রগতি, দাবি পরিশোধে নিয়ন্ত্রিত ব্যয় এবং প্রিমিয়াম সংগ্রহ বৃদ্ধির ফলে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।

