দেশের শেয়ারবাজারে টানা উত্থানের পর শুরু হয়েছে কিছুটা দর সংশোধন। গতকাল রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে। তবে বাজারে বিক্রির চাপ থাকলেও লেনদেনে সক্রিয় ছিলেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। দিনের মোট লেনদেনে তাদের অংশগ্রহণ ছিল প্রায় ৮৯ শতাংশ।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইতে মোট ১ হাজার ৭০ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অংশ ছিল ৮৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। আর বিক্রির ক্ষেত্রেও তাদের অংশ ছিল ৮৮ দশমিক ২৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনার অংশ ছিল মোট লেনদেনের ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ। বিক্রির ক্ষেত্রে তাদের অংশ ছিল ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ। ব্রোকার ডিলার হিসাব থেকে শেয়ার কেনার পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং বিক্রির পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ছিল খুবই সীমিত। তাদের হিসাব থেকে শেয়ার কেনার অংশ ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ এবং বিক্রির অংশ ছিল শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ।
এদিকে, কয়েক দিন ধারাবাহিক উত্থানের পর গতকাল বাজারে বড় ধরনের দর সংশোধন হয়েছে। ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ২১৫টি কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে, যা মোট তালিকাভুক্ত কোম্পানির প্রায় ৬৬ শতাংশ। বিপরীতে ৭৪টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে।
দরপতনের প্রভাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৫৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এর আগের কার্যদিবসেও ৬০ শতাংশের বেশি কোম্পানির শেয়ারদর কমেছিল।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক বড় উত্থানের পর এই দর সংশোধনকে স্বাভাবিক প্রবণতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাদের মতে, গত ১৮ মে থেকে ডিএসইএক্স সূচক ৫ হাজার ২০৩ পয়েন্ট থেকে বেড়ে গত বুধবার ৫ হাজার ৯৬৬ পয়েন্ট অতিক্রম করে। অর্থাৎ এই সময়ে সূচক প্রায় ৭৫০ পয়েন্ট বেড়েছে।
এ সময়ে অনেক কোম্পানির শেয়ারদর গত এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিছু কোম্পানির শেয়ারদর দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ফলে অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নিতে শেয়ার বিক্রি করছেন। এর প্রভাবেই বাজারে সাময়িক বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন ব্রোকারেজ হাউস কর্মকর্তারা।
ক্ষুদ্র ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আচরণের পার্থক্য ব্যাখ্যা করে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলেন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ অনেক সময় বাজারের সামগ্রিক প্রবণতা দেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন। অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও অন্যান্য মৌলিক বিষয় বিবেচনা করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেন। ফলে ভালো মুনাফা হলে তারা অনেক সময় শেয়ার বিক্রি করে লাভ তুলে নেন।
গতকাল ডিএসইতে ৭৭টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, ২৩৫টির কমেছে এবং ৪১টির দর অপরিবর্তিত ছিল। তবে দরপতনের মধ্যেও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। একই সঙ্গে মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর দরেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্থানের পর বর্তমান সংশোধন বাজারের জন্য স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হলে কোম্পানির মৌলভিত্তি, বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

