পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ২০২৫ অর্থবছরের মুনাফা থেকে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আগের অর্থবছরে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ফলে এক বছরের ব্যবধানে লভ্যাংশের হার বৃদ্ধি পেয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে প্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্যে কোম্পানিটি এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
ঘোষিত লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় লভ্যাংশ ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা উপস্থাপন করা হবে। লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য শেয়ারহোল্ডার নির্ধারণে আগামী ২০ আগস্ট রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে।
লভ্যাংশ ঘোষণার পাশাপাশি চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের (জানুয়ারি-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে কোম্পানিটি। ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, দাবি পরিশোধসহ জীবন বিমা হিসাবে ১৫ কোটি ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকার ঘাটতি হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ৯০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ফলে বছরের ব্যবধানে ঘাটতি কিছুটা বেড়েছে।
শুধু দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) হিসাবেও জীবন বিমা হিসাবে ৮ কোটি ১১ লাখ টাকার ঘাটতি হয়েছে। অথচ ২০২৫ সালের একই সময়ে কোম্পানিটি ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার উদ্বৃত্ত অর্জন করেছিল। অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রান্তিকে উদ্বৃত্ত থেকে ঘাটতিতে চলে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি, যা পরিচালন কার্যক্রমের ওপর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত দেয়।
তবে জীবন বিমা তহবিলের আকারে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির জীবন বিমা তহবিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৮৫ কোটি ৫৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এক বছর আগে একই সময়ে এ তহবিল ছিল ৪৭৯ কোটি ৮১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ফলে এক বছরে জীবন বিমা তহবিলে ৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকার প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিমা খাতে জীবন বিমা তহবিলের প্রবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তবে একই সঙ্গে দাবি পরিশোধের পর ঘাটতি বৃদ্ধি এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে উদ্বৃত্ত থেকে ঘাটতিতে চলে যাওয়ার বিষয়টিও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে কোম্পানির আন্ডাররাইটিং কার্যক্রম, প্রিমিয়াম আয় এবং দাবি ব্যবস্থাপনার ওপর নজর রাখা প্রয়োজন হবে।
রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০০৯ সালে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি ১ লাখ টাকা। উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বাইরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে মোট শেয়ারের ৬৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
সোমবার (২০ জুলাই) লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের সমাপনী দর ছিল ৯০ টাকা ৬০ পয়সা।

