অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দর কমলেও ব্যাংক ও আর্থিক খাতের ইতিবাচক পারফরম্যান্সে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক সামান্য বেড়েছে। তবে সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও বাজারের সার্বিক চিত্র খুব একটা ইতিবাচক ছিল না। কারণ দরপতনের তালিকায় থাকা কোম্পানির সংখ্যা ছিল দরবৃদ্ধি হওয়া প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি এবং একই সঙ্গে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সোমবার (২০ জুলাই) সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেনের শুরু থেকেই বিক্রির চাপ বেশি ছিল। তবে শেষ ভাগে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বস্ত্র খাত এবং মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ারে ক্রয়চাপ বাড়ায় প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৮৫৭ পয়েন্টে অবস্থান করে।
দিনশেষে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪৮টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, ১৮২টির কমেছে এবং ৫৮টির দর অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ সূচক বাড়লেও বাজারে দরপতনের প্রবণতাই ছিল বেশি।
খাতভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ব্যাংকিং খাত বাজারে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। তালিকাভুক্ত ১৮টি ব্যাংকের শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে মাত্র ২টির। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এ খাতের ১১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে, আর কমেছে মাত্র ৩টির।
এ ছাড়া বস্ত্র খাতের ৩১টি এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ২২টি প্রতিষ্ঠানের দরও বেড়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে ছিল বিমা খাত। এ খাতের ৫২টি কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে, যা পুরো বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
লেনদেনের পরিমাণেও কিছুটা স্থবিরতা দেখা গেছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৯৬৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১০৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা কম। এতে বোঝা যায়, বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ এবং বাজারে নতুন অর্থ প্রবাহ আগের দিনের তুলনায় কিছুটা দুর্বল ছিল।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল মালেক স্পিনিং, যার ৪৭ কোটি ১৬ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা টেকনো ড্রাগসের লেনদেন হয়েছে ৩৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং ২৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট।
লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আরও ছিল এসিআই ফর্মুলেশনস, ফারইস্ট নিটিং, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, জেনেক্স ইনফোসিস, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, এমএল ডাইং এবং লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ।
দরবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে ছিল এল আর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড, যার ইউনিটদর ১০ শতাংশ বেড়েছে। একই হারে বেড়েছে এমবিএল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটদর। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শেয়ারের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ।
এ ছাড়া দরবৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় ছিল এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড, এমএল ডাইং, গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, ট্রাস্ট ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, এসিআই ফর্মুলেশনস, মিডল্যান্ড ব্যাংক এবং ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস।
অন্যদিকে দরপতনের শীর্ষে উঠে এসেছে প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, যার শেয়ারের দাম ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমেছে। দ্বিতীয় স্থানে ছিল কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স, যার দর কমেছে ৫ দশমিক ১১ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম কমেছে ৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
দরপতনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও ছিল স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, এআইবিএল প্রথম ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, পুরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স এবং ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স।
অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে মোট লেনদেন বেড়ে ১১ কোটি ১৫ লাখ টাকা হলেও সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১০ পয়েন্ট কমেছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০০টির দর বেড়েছে এবং ৯৭টির দর কমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের ইতিবাচক পারফরম্যান্স না থাকলে এদিন ডিএসইর প্রধান সূচকও নিম্নমুখী হতে পারত। তবে লেনদেন কমে যাওয়া এবং অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতন বাজারে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী কয়েকটি কার্যদিবসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ এবং তারল্যের প্রবাহের ওপর বাজারের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি অনেকটাই নির্ভর করবে।

