বেক্সিমকো লিমিটেডের গ্রিন-সুকুক আল ইসতিসনার পঞ্চম বছরের প্রথম ছয় মাসের ঘোষিত মুনাফা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, বন্ডটির ট্রাস্টি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মুনাফার অর্থ সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের কাছে পাঠিয়েছে। এর মাধ্যমে সুকুকধারীরা চলতি মেয়াদের প্রথমার্ধের রিটার্ন গ্রহণ করলেন।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ২২ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সময়কে পঞ্চম বছরের প্রথমার্ধ হিসেবে গণনা করা হয়েছে। এ সময়ের জন্য বেক্সিমকো গ্রিন-সুকুক আল ইসতিসনা ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ মুনাফা ঘোষণা করেছিল। সেই ঘোষিত মুনাফার অর্থ এখন বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে সুকুকটির প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বছরের উভয় অর্ধবার্ষিক মেয়াদের ঘোষিত মুনাফাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল। ফলে শুরু থেকেই ছয় মাস অন্তর নিয়মিত রিটার্ন প্রদান করে আসছে এ শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগপণ্য।
পাঁচ বছর মেয়াদি এ সুকুকের রিটার্ন প্রতি ছয় মাস পরপর নির্ধারণ করা হয়। এর হিসাব করা হয় ৯ শতাংশ ভিত্তিমূল্যের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট মুনাফা মার্জিন যোগ করে। বেক্সিমকো লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ঘোষিত লভ্যাংশের হার এবং ভিত্তিমূল্যের মধ্যে যে পার্থক্য থাকে, তার ১০ শতাংশকে অতিরিক্ত মার্জিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
নীতিমালা অনুযায়ী, কোম্পানির ঘোষিত লভ্যাংশ যদি ৯ শতাংশ বা তার কম হয়, তাহলে বিনিয়োগকারীরা কেবল ভিত্তিমূল্যের ওপর নির্ধারিত রিটার্ন পান। তবে লভ্যাংশের হার ৯ শতাংশ অতিক্রম করলে অতিরিক্ত অংশের ১০ শতাংশ সুকুকের মুনাফার সঙ্গে যুক্ত হয়। এ পদ্ধতিতে প্রতি ছয় মাসের রিটার্ন নির্ধারণ করা হয়।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৭৭৯তম কমিশন সভায় বেক্সিমকো লিমিটেডের এ গ্রিন-সুকুক অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ২০২২ সালের এপ্রিলে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা ৩ হাজার কোটি টাকার সুকুক ইস্যুর পরিকল্পনায় সম্মতি দেন।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, সুকুক থেকে সংগৃহীত অর্থের একটি বড় অংশ বেক্সিমকো লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান তিস্তা সোলার লিমিটেড ও করতোয়া সোলার লিমিটেডের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি বস্ত্র খাতের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও এ অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
বেক্সিমকো গ্রিন-সুকুক ট্রাস্ট নামে একটি বিশেষ উদ্দেশ্যমূলক প্রতিষ্ঠান (এসপিভি) গঠন করে এ সুকুক ইস্যু করা হয়। শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগপণ্য হিসেবে এটি পুঁজিবাজারে বিকল্প অর্থায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

