দেশের শেয়ারবাজারে টানা দরপতনের চাপ কিছুটা সামলে দিয়েছে মিউচুয়াল ফান্ড খাত। বুধবার (২২ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমলেও মিউচুয়াল ফান্ডের বেশিরভাগ ইউনিটে বড় উত্থান দেখা গেছে। তবে এ উত্থান পুরো বাজারকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি। দিন শেষে ডিএসইর সবকটি মূল্যসূচকই কমেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দিনের শুরু থেকেই মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট কেনার প্রবণতা বাড়তে থাকে। লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই বেশ কয়েকটি ফান্ডের ইউনিট সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধির সীমায় পৌঁছে যায়। দিনভর এই খাতের ইতিবাচক অবস্থান অব্যাহত থাকলেও ব্যাংক, প্রকৌশল, ওষুধ, বস্ত্রসহ অন্যান্য খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিক্রির চাপ থাকায় সামগ্রিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বুধবার ডিএসইতে মোট ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, কমেছে ২৪৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৪টির দাম।
মিউচুয়াল ফান্ড খাতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। লেনদেনে থাকা ৩৪টি ফান্ডের মধ্যে ২৯টির দাম বেড়েছে, কমেছে মাত্র একটি ফান্ডের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে চারটির দাম। ফলে বাজারে বড় ধরনের পতনের মধ্যেও এই খাত বিনিয়োগকারীদের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।
দরপতনের কারণে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৭১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এ ছাড়া বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২১৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক কমেছে ৪ পয়েন্ট। দিন শেষে এ সূচকের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯৯ পয়েন্টে।
সূচকের পতন হলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। বুধবার প্রধান বাজারটিতে মোট ১ হাজার ২১১ কোটি ১৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১২৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ৮১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
অন্যদিকে দেশের দ্বিতীয় শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বাড়লেও মূল্যসূচক কমেছে। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ২০ পয়েন্ট।
সিএসইতে বুধবার ২৫১টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১১৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, কমেছে ১০৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টির দাম। তবে বাজারটিতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। দিন শেষে সিএসইতে ১৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ১৯ কোটি ২ লাখ টাকা।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়লেও সামগ্রিক বাজারে বিক্রির চাপ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ফলে একটি খাতের ইতিবাচক পারফরম্যান্স সামগ্রিক সূচককে পতন থেকে রক্ষা করতে পারছে না। তবে মিউচুয়াল ফান্ডে ক্রয়চাপ তৈরি হওয়ায় বাজারে আস্থার কিছুটা ইতিবাচক বার্তা তৈরি হয়েছে।

