দেশের পুঁজিবাজারে টেকসই অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো এবং জলবায়ুবান্ধব বিনিয়োগ কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বৈঠকে গ্রিন বন্ড, সাসটেইনেবিলিটি বন্ডসহ বিভিন্ন ধরনের থিমেটিক বন্ড বাজারের উন্নয়ন এবং এসব আর্থিক পণ্যের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
গত ২১ জুলাই বিএসইসির কমিশন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান এবং সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। অন্যদিকে আইএমএফের ক্লাইমেট পলিসি ডায়াগনস্টিক টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স মিশনের ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন টিম লিডার সুপাচল সুপাচালাসাই।
বৈঠকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিনিয়োগ ব্যবস্থার প্রসার নিয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করে। বিশেষ করে গ্রিন বন্ড, সাসটেইনেবিলিটি বন্ড এবং অন্যান্য থিমেটিক বন্ড চালুর ক্ষেত্রে বিদ্যমান সুযোগ, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় টেকসই অর্থায়নের জন্য তৈরি করা সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ট্যাক্সোনমির অগ্রগতি নিয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে যাচাই প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করা, প্রকল্পের বাস্তব প্রভাব পরিমাপ ও প্রতিবেদন প্রকাশ, তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়ন বা বহিরাগত পর্যালোচনা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে সম্ভাব্য বন্ড ইস্যুকারীদের প্রস্তুতি, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও চাহিদা বিশ্লেষণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন কার্যক্রমে অর্থায়নের জন্য বিশ্বজুড়ে টেকসই বন্ডের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারেও এ ধরনের আর্থিক পণ্যের বিস্তার ঘটলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বৈঠকে বাংলাদেশের টেকসই অর্থায়ন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারের ভূমিকা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার আলোকে নীতি কাঠামো উন্নয়ন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাজার অবকাঠামো আধুনিকায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিন বন্ড ও অন্যান্য টেকসই আর্থিক পণ্যের বাজার বিকাশ করতে পারলে দেশের অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের নতুন পথ তৈরি হতে পারে। এতে একদিকে যেমন পুঁজিবাজারের পরিধি বাড়বে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
আইএমএফের কারিগরি সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় এ ধরনের আলোচনা দেশের টেকসই অর্থায়ন নীতিমালা ও বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

