পুঁজিবাজারে নতুন করে আলোচনায় আসা ‘পিবি রেশিও’ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত মার্জিন বিধিমালার সংশোধনী এখনো চূড়ান্ত হয়নি, অংশীজনদের মতামত নিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।
সম্প্রতি ‘বিএসইসি (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’-এর খসড়া সংশোধনী প্রকাশ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এতে নতুন করে ‘পিবি রেশিও’ বা মূল্য ও নিট সম্পদমূল্যের অনুপাত যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এরপর থেকেই বাজারে বিশেষ করে বিমা খাতের শেয়ার নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, নতুন কোনো বিষয় সামনে এলে অনেক সময় তা না বুঝে বাজারে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ‘পিই রেশিও’ দীর্ঘদিনের পরিচিত হলেও ‘পিবি রেশিও’ তুলনামূলক নতুন হওয়ায় অনেকের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারেও এ ধরনের পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে মতামত নেওয়ার জন্য খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। এটি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। মতামত পর্যালোচনার পরই চূড়ান্ত বিধিমালা প্রকাশ করা হবে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে মার্জিন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘পিবি রেশিও’ বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানের পিবি রেশিও ৩-এর বেশি হলে ওই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। অন্যদিকে বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে পিবি রেশিও ১-এর বেশি হলে ওই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে মার্জিন সুবিধা বন্ধ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এই পার্থক্যের কারণে বিমা খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ তালিকাভুক্ত ৫৮টি বিমা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অনেক কোম্পানির শেয়ারদর তাদের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যের (এনএভিপিএস) তুলনায় বেশি অবস্থানে রয়েছে।
ফলে প্রস্তাবটি কার্যকর হলে ৫০টির বেশি বিমা কোম্পানি মার্জিন ঋণের সুবিধার বাইরে চলে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে।
পিবি রেশিও নিয়ে আলোচনার পর গত কয়েক সপ্তাহে বিমা খাতের শেয়ারগুলোতে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। গত সপ্তাহে (১৯-২৩ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৯৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮০৪ পয়েন্টে নেমে আসে।
এই সময়ে তালিকাভুক্ত ৫৮টি বিমা কোম্পানির মধ্যে ৫৪টির শেয়ারদর কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে মাত্র চারটির দর। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পিবি রেশিও নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাই বিমা খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যার প্রভাব পুরো বাজারে পড়েছে।
বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, বাজারে যদি কোনো বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি বা নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়, তাহলে সেটি অবশ্যই পর্যালোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, কমিশন বিনিয়োগকারীবান্ধব। কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হবে না। যুক্তিসংগত কোনো আপত্তি এলে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, পুঁজিবাজারে নতুন কোনো নীতিমালা কার্যকর করার আগে এর সম্ভাব্য প্রভাব, বিনিয়োগকারীদের সক্ষমতা এবং বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি। একই সঙ্গে নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

