চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত পিপলস ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) বেড়েছে প্রায় ৯৭ শতাংশ। সুদ আয়, ভাড়া আয় এবং অন্যান্য আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বিনিয়োগ থেকে ভালো আয় পাওয়ায় কোম্পানিটির মুনাফায় এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে প্রকাশিত কোম্পানিটির চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) অনীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রোববার অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রতিবেদনটি অনুমোদন করা হয়।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে পিপলস ইন্স্যুরেন্সের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ২ টাকা ৯৩ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ১ টাকা ৪৯ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা বেড়েছে ১ টাকা ৪৪ পয়সা, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ৯৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।
শুধু প্রথম ছয় মাসেই নয়, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও কোম্পানিটির মুনাফায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ১ টাকা ৬৪ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে এই হার ছিল ৮৬ পয়সা।
সে হিসাবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে ৭৮ পয়সা বা প্রায় ৯১ শতাংশ। কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, চলতি বছরের ৩০ জুন শেষে পিপলস ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪০ টাকা ৮৮ পয়সা।
কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগের বছরের তুলনায় চলতি বছরে সুদ আয়, ভাড়া আয় এবং অন্যান্য আয়ের পরিমাণ বেড়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয়ও মুনাফা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এসব কারণে বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির সামগ্রিক আর্থিক অবস্থান আগের বছরের তুলনায় শক্তিশালী হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বীমা খাতের কোম্পানিগুলোর জন্য আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পিপলস ইন্স্যুরেন্সের মুনাফা বৃদ্ধির পেছনে মূল ব্যবসার আয় বৃদ্ধির সঙ্গে বিনিয়োগ আয় বাড়ার বিষয়টিও ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানিটির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে আয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং বীমা ব্যবসার সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

