টানা তিন কার্যদিবস দরপতনের পর সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে আবারও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি প্রধান মূল্যসূচকগুলোও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। একই সঙ্গে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের চাপের পর মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ারে বড় ধরনের ক্রয়চাপ তৈরি হওয়ায় সোমবার বাজারে গতি ফিরে আসে। লেনদেনের শুরু থেকেই মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর দাম বাড়তে থাকে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে অন্যান্য খাতের শেয়ারেও।
দিনের শুরুতে প্রায় সব মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বৃদ্ধির কারণে ডিএসইর সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। লেনদেনের শেষ পর্যায়ে ক্রেতাদের সক্রিয়তা আরও বাড়লে দাম বাড়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং বড় উত্থানের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শেষ হয়।
দিন শেষে ডিএসইতে মোট ২৯৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ৫৩টি প্রতিষ্ঠানের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৯টির দাম। এদিন মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের উত্থান দেখা যায়। মোট ৩১টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বেড়েছে, অপরিবর্তিত ছিল ৩টির দাম। কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের দাম কমেনি।
বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৮৩৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
এ ছাড়া বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ১৫ পয়েন্ট। দিন শেষে এ সূচক অবস্থান করছে ২ হাজার ২০১ পয়েন্টে। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক বেড়েছে ১১ পয়েন্ট এবং দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮৮ পয়েন্টে।
সূচকের পাশাপাশি বেড়েছে ডিএসইর লেনদেনের পরিমাণও। সোমবার প্রধান বাজারটিতে মোট লেনদেন হয়েছে ৮৭২ কোটি ৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭৮০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ৯১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। এদিন সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১২৫ পয়েন্ট।
সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪৫টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ৬২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৫টির দাম। এ বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মিউচুয়াল ফান্ডসহ বিভিন্ন খাতের শেয়ারে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ায় বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। তবে ধারাবাহিক উত্থানের জন্য বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি, ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিতে বিনিয়োগ এবং বাজারে স্থিতিশীল পরিবেশ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

