দুই কার্যদিবসের ঊর্ধ্বমুখী ধারা ধরে রাখতে পারল না দেশের শেয়ারবাজার। সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার শেষ এক ঘণ্টার তীব্র বিক্রিচাপের মুখে ঢাকা ও চট্টগ্রাম—উভয় পুঁজিবাজারেই সূচকের পতন হয়েছে। যদিও দরপতনের মধ্যেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দিনের শুরুতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় সূচকও ইতিবাচক অবস্থানে ছিল। প্রথম তিন ঘণ্টাজুড়ে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকলেও শেষ ঘণ্টায় ব্যাপক বিক্রিচাপ তৈরি হয়। এতে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমে যায় এবং সূচকও নেতিবাচক অবস্থানে নেমে দিনের লেনদেন শেষ হয়।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৩টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৩৯টির দাম কমেছে এবং ৩৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিভিন্ন শ্রেণির কোম্পানির মধ্যে ভালো লভ্যাংশ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানেরও অধিকাংশ শেয়ারের দর কমেছে। ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬৮টির শেয়ারদর বেড়েছে, ১১৭টির কমেছে এবং ১০টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া মাঝারি মানের কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২০টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৫২টির কমেছে এবং দুটি প্রতিষ্ঠানের দর অপরিবর্তিত ছিল।
লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৪টির দর বেড়েছে, ৭০টির কমেছে এবং ২৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে মাত্র ছয়টির ইউনিটদর বেড়েছে, ২৪টির কমেছে এবং চারটির দর অপরিবর্তিত ছিল।
দরপতনের কারণে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৭৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে।
একই সঙ্গে ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসই-৩০ ৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২১০ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৯১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
যদিও সূচক কমেছে, তবে লেনদেনের গতি বেড়েছে। বুধবার ডিএসইতে মোট ১ হাজার ৩৪২ কোটি ৫১ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২৬০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক দিনে লেনদেন বেড়েছে ৮১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল আর্গন ডেসিমস। কোম্পানিটির প্রায় ৩৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংস-এর শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। তৃতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকোর শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ২১ লাখ টাকা।
এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে সায়হাম টেক্সটাইল, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, একমি পেস্টিসাইডস, আইটি কনসালট্যান্টস, সায়হাম কটন, ব্র্যাক ব্যাংক এবং ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দরপতনের প্রবণতা দেখা গেছে। বাজারটির সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ২৫ পয়েন্ট কমেছে।
সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৬৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৩টির শেয়ারদর বেড়েছে, ১২৭টির কমেছে এবং ২৬টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
এদিন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে মোট ৩৭ কোটি ৭ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ৬৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, দিনের বেশিরভাগ সময় বাজার ইতিবাচক থাকলেও শেষ ঘণ্টার বিক্রিচাপ সূচককে নিম্নমুখী করে দেয়। তবে লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী কয়েকটি কার্যদিবসে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও বাজারের প্রবণতা পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

