চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রেখেছে বেসরকারি খাতের আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে প্রতিষ্ঠানটি নিট মুনাফা করেছে ২০ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় সাড়ে সাঁইত্রিশ শতাংশ বেশি।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি এই আর্থিক তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত আইপিডিসির মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাত হাজার চারশ সতেরো কোটি টাকায়। একই সময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত মোট আমানতের পরিমাণ প্রায় আট শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ছয় হাজার সাতশ ষোলো কোটি টাকায়।
প্রতিষ্ঠানের আয়ের কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই ছয় মাসে মোট পরিচালন আয়ের একটি বড় অংশ, প্রায় ষাট শতাংশ এসেছে মূল অর্থায়ন কার্যক্রম থেকে। এর পাশাপাশি সরকারি সিকিউরিটিজসহ অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ফলে প্রতিষ্ঠানের মোট বিনিয়োগ গিয়ে ঠেকেছে এক হাজার পাঁচশ চৌত্রিশ কোটি টাকায়।
সুদ আয়ের হিসাবেও ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে আইপিডিসির মোট সুদ আয় আগের বছরের তুলনায় প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারশ আটাশি কোটি টাকায়। এর মধ্যে নিট সুদ আয় বেড়েছে আরও উল্লেখযোগ্য হারে, প্রায় সাড়ে বাইশ শতাংশ, যার পরিমাণ একশ ষোলো কোটি টাকা।
সার্বিক আয় বৃদ্ধির এই ধারা প্রতিষ্ঠানের মোট পরিচালন আয়েও প্রতিফলিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মোট পরিচালন আয় প্রায় ঊনত্রিশ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুইশ ছয় কোটি টাকায়। শুধু দ্বিতীয় প্রান্তিকের হিসাব করলে এই আয় ছিল একশ বারো কোটি বিশ লাখ টাকা, যেখানে প্রবৃদ্ধির হার প্রায় তেত্রিশ শতাংশ।
শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট সূচকগুলোতেও উন্নতি দেখা গেছে। প্রতিষ্ঠানের শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ আগের আট টাকা বারো পয়সা থেকে বেড়ে বারো টাকা দুই পয়সায় উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে শেয়ারপ্রতি আয়, অর্থাৎ ইপিএসও বেড়েছে—আগের পঁয়ত্রিশ পয়সা থেকে তা দাঁড়িয়েছে আটচল্লিশ পয়সায়।
এই আর্থিক ফলাফল প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য করেন, গ্রাহকদের আস্থাকেই তাঁরা তাঁদের প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচনা করেন এবং সেই আস্থা টিকিয়ে রাখাকেই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব মনে করেন। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বলেন, এই সাফল্য কোম্পানির শক্তিশালী ব্যবসায়িক কাঠামো ও দূরদর্শী পরিকল্পনারই প্রতিফলন।
সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ঋণ বিতরণ, আমানত সংগ্রহ এবং বিনিয়োগ—তিন ক্ষেত্রেই সমান্তরাল প্রবৃদ্ধি প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ভিত্তিকে আরও মজবুত করেছে। বিশেষ করে নিট সুদ আয় ও পরিচালন আয়ের উচ্চ প্রবৃদ্ধি ইঙ্গিত দেয় যে প্রতিষ্ঠানটি তার মূল ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষতা বাড়িয়েছে, যা আর্থিক খাতের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ইতিবাচক অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

