সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস আজ মঙ্গলবার দেশের পুঁজিবাজারে সূচক পতনের মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে দিনের লেনদেন। এদিন দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ— দুই জায়গাতেই লেনদেনের পরিমাণ আগের কার্যদিবসের তুলনায় কমেছে। উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক তিন পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৬৪০ পয়েন্টে গিয়ে ঠেকেছে। তবে অন্য দুটি সূচকের মধ্যে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে— শরিয়াহভিত্তিক সূচকটি দুই পয়েন্ট বেড়ে ১১২৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে, আর নির্বাচিত কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত সূচকটি চার পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২১২৬ পয়েন্টে।
লেনদেনের হিসাবেও দেখা যাচ্ছে পতনের ছাপ। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোট পাঁচশ ছয় কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় পঁচানব্বই কোটি টাকা কম। আগের কার্যদিবসে এই বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ছয়শ এক কোটি ৯৭ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার ঢাকার এই বাজারে মোট তিনশ একানব্বইটি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে একশ পঁচাত্তরটি কোম্পানির শেয়ারের, কমেছে একশ বাহান্নটির এবং অপরিবর্তিত ছিল চৌষট্টিটি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক তিরানব্বই পয়েন্ট কমে পনেরো হাজার একশ বাষট্টি পয়েন্টে অবস্থান করছে। এই বাজারে হাতবদল হওয়া মোট একশ অষ্টাশিটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ারের দাম বেড়েছে ঊনপঞ্চাশটির, কমেছে একশ ঊনিশটির এবং অপরিবর্তিত ছিল বিশটি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের এই বাজারে মোট চার কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় দশ কোটি টাকা কম। আগের কার্যদিবসে এই বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল চৌদ্দ কোটি ৮২ লাখ টাকা।
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক ও লেনদেন একসঙ্গে কমে যাওয়ার এই প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সাময়িক সতর্কতা বা অনিশ্চয়তার একটি ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের পরিমাণ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমে যাওয়া উল্লেখযোগ্য একটি প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বৈশ্বিক বাজারের প্রভাব এবং দেশীয় নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো আগামী দিনগুলোতে পুঁজিবাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

