গত সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে সার্বিকভাবে ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে। সপ্তাহে মোট পাঁচটি কার্যদিবসের মধ্যে তিন দিনই বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে, যার ফলে বেশিরভাগ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে এবং একই সঙ্গে বেড়েছে প্রধান মূল্যসূচকও। এই ইতিবাচক প্রবণতার প্রভাবে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক বাজার মূলধন প্রায় চার হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
লেনদেনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২৬৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে দাম কমেছে মাত্র ৩৫টির। বাকি ৮৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর অপরিবর্তিত ছিল। এই হিসাব থেকেই স্পষ্ট হয়, বিনিয়োগকারীদের আস্থা গত সপ্তাহজুড়ে তুলনামূলক ইতিবাচক অবস্থানে ছিল।
সপ্তাহ শেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫ হাজার ১৩৩ কোটি টাকায়, যা তার আগের সপ্তাহে ছিল ৭ লাখ ১ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানেই বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় ৩ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা।
মূল্যসূচকের দিক থেকেও গত সপ্তাহে দেখা গেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ৯১ দশমিক ২৮ পয়েন্ট, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ১ দশমিক ৫৭ ভাগ। প্রসঙ্গত, ঠিক তার আগের সপ্তাহে এই সূচক কমেছিল ৯৬ দশমিক শূন্য ৬ পয়েন্ট বা প্রায় ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। অর্থাৎ আগের সপ্তাহের পতনের ধারা কাটিয়ে বাজার আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলা যায়।
অন্য দুটি সূচকের ক্ষেত্রেও একই রকম চিত্র দেখা গেছে। শরিয়াহভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ১২ দশমিক ১৮ পয়েন্ট, যা প্রায় ১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশের সমান, যেখানে আগের সপ্তাহে এই সূচক কমেছিল ২৩ দশমিক ৮০ পয়েন্ট। আর তুলনামূলক ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ২৪ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বা প্রায় ১ দশমিক ১২ শতাংশ, যেখানে আগের সপ্তাহে এই সূচকের পতন হয়েছিল ৩৪ দশমিক ৯১ পয়েন্ট।
তবে সূচক ও মূলধন বাড়লেও লেনদেনের গতিতে সামান্য মন্থরতা দেখা গেছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৫৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা, যা তার আগের সপ্তাহের দৈনিক গড় লেনদেন ১ হাজার ৬৩ কোটি ২৬ লাখ টাকার তুলনায় কিছুটা কম। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে প্রায় ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, শতাংশের হিসাবে যা মাত্র দশমিক ৩১ ভাগ।
লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় নজর দিলে দেখা যায়, টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে একটি স্টিল খাতের প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে, যেখানে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা—যা মোট লেনদেনের প্রায় ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। এরপর দ্বিতীয় স্থানে থাকা একটি প্রযুক্তি-পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা, আর তৃতীয় স্থানে থাকা একটি বন্দর-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ৯ লাখ টাকা।
এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে বস্ত্র খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান, একটি রঞ্জন-সংশ্লিষ্ট কোম্পানি, ওষুধ খাতের একটি প্রতিষ্ঠান, একটি ডেনিম উৎপাদনকারী কোম্পানি এবং একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
সামগ্রিকভাবে গত সপ্তাহের এই চিত্র থেকে বোঝা যায়, বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা তুলনামূলক শক্ত অবস্থানে ফিরেছে, যদিও লেনদেনের পরিমাণে সামান্য মন্থরতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। আগামী সপ্তাহগুলোতে এই ইতিবাচক প্রবণতা কতটা ধরে রাখা যায়, তার ওপরই নির্ভর করবে বাজারের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা।

