টানা তিন কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দেশের শেয়ারবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের দামে কিছুটা সংশোধন দেখা গেছে। বেশিরভাগ মিউচুয়াল ফান্ডের দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক বাজারেই দরপতনের তালিকা আগের চেয়ে বড় হয়েছে। তারপরও প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল প্রাইস ইনডেক্স বেড়েছে, যদিও বাকি দুটি সূচক নিম্নমুখী ছিল। একই সঙ্গে সামগ্রিক লেনদেনের পরিমাণও কমেছে।
তবে অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চিত্র ছিল ভিন্ন। সেখানে দাম বৃদ্ধি পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাই বেশি থাকায় বাজারটির সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল, যদিও লেনদেনের পরিমাণ সেখানেও কমেছে।
দিনের লেনদেন শুরু হয়েছিল ইতিবাচক ধারায়। মিউচুয়াল ফান্ডসহ বিভিন্ন খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বাড়তে থাকায় শুরুর দিকে সূচক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখায়। লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা পর্যন্ত এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত ছিল।
কিন্তু দুপুর বারোটার পর থেকে বাজারের গতিপথ বদলে যেতে থাকে। একের পর এক মিউচুয়াল ফান্ডের দরপতন শুরু হয়, যার নেতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য খাতেও। দিনের বাকি সময় জুড়ে এই দরপতনের ধারা অব্যাহত থাকে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, দাম বৃদ্ধি পাওয়া তালিকায় ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোর প্রাধান্য থাকায় দরপতনের তালিকা বড় হওয়া সত্ত্বেও দিনের শেষে প্রধান সূচক সামান্য বেড়েই লেনদেন শেষ হয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ডিএসইতে দিনশেষে সব খাত মিলিয়ে একশ সত্তরটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে একশ ছিয়াত্তরটির দাম কমেছে এবং পঁয়তাল্লিশটির দাম অপরিবর্তিত থেকেছে। মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে দশটির দাম বাড়লেও উনিশটির দাম কমেছে এবং পাঁচটি অপরিবর্তিত ছিল।
লভ্যাংশের ভিত্তিতে খাত বিশ্লেষণে দেখা যায়, দশ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারী ভালো মানের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিরানব্বইটির দাম বেড়েছে, চুরাশিটির কমেছে এবং একুশটি অপরিবর্তিত থেকেছে। এর চেয়ে কম লভ্যাংশ প্রদানকারী মাঝারি মানের কোম্পানিগুলোর মধ্যে চব্বিশটির দাম বেড়েছে, সাতচল্লিশটির কমেছে এবং তিনটি অপরিবর্তিত ছিল। অন্যদিকে লভ্যাংশ না দেওয়া জেড ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চুয়ান্নটির দাম বেড়েছে, পঁয়তাল্লিশটির কমেছে এবং একুশটি অপরিবর্তিত ছিল।
সার্বিক হিসাবে ডিএসইর প্রধান সূচক আগের দিনের তুলনায় আট পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার আটশ চুরানব্বই পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে বাছাই করা ভালো ত্রিশটি কোম্পানি নিয়ে গঠিত সূচকটি দুই পয়েন্ট কমে দুই হাজার দুইশ এক পয়েন্টে নেমেছে, আর শরিয়াহভিত্তিক সূচকটি দশমিক চার নয় পয়েন্ট কমে এক হাজার একশ পঁচাশি পয়েন্টে অবস্থান করছে।
লেনদেনের পরিমাণের দিক থেকে ডিএসইতে এদিন মোট এক হাজার একশ এগারো কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় নিরানব্বই কোটি টাকা কম। লেনদেনে শীর্ষস্থানীয় ভূমিকা রেখেছে একটি কীটনাশক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, যার লেনদেন হয়েছে ছত্রিশ কোটি টাকার বেশি। এরপরের অবস্থানে ছিল একটি ইলেকট্রনিক্স প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এবং তৃতীয় স্থানে একটি বন্দর-সংশ্লিষ্ট কোম্পানি।
অন্যদিকে সিএসইতে সার্বিক সূচক পঁচিশ পয়েন্ট বেড়েছে। এই বাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া মোট আড়াইশ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একশ দশটির দাম বেড়েছে, একশ পাঁচটির কমেছে এবং পঁয়ত্রিশটি অপরিবর্তিত থেকেছে। সেখানে মোট লেনদেন হয়েছে আঠারো কোটি টাকার বেশি, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় কম।

