সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস আজ বৃহস্পতিবার দেশের শেয়ারবাজারে দেখা গেছে ব্যাপক দরপতন। ভালো-মন্দ নির্বিশেষে প্রায় সব খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের পাশাপাশি বেশিরভাগ মিউচুয়াল ফান্ডের দামও কমে গেছে এদিন।
বড় সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমে যাওয়ায় প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মূল্যসূচক নিম্নমুখী হয়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও, যেখানে দরপতনের তালিকায় ছিল তুলনামূলক বেশি প্রতিষ্ঠান, ফলে সেখানকার সূচকও নিচে নেমেছে। তবে উভয় বাজারেই দরপতনের মধ্যেও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে।
দিনের শুরুতে অবশ্য চিত্রটা ছিল উল্টো। মিউচুয়াল ফান্ডসহ বিভিন্ন খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ার মধ্য দিয়েই শুরু হয় লেনদেন, যার ফলে সকালের দিকে বাজারে দেখা যায় ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। কিন্তু দিনের শেষ আড়াই ঘণ্টায় হঠাৎ করেই বাজারে নেমে আসে ব্যাপক দরপতন। ফলে দাম কমার তালিকা দ্রুত বড় হয়ে যায় এবং দিনশেষে সূচক নিম্নমুখী অবস্থাতেই লেনদেন সমাপ্ত হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ঢাকার বাজারে সব খাত মিলিয়ে ৮৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে দাম কমেছে ২৬৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪১টির দাম। মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রেও চিত্র প্রায় একই রকম—মাত্র দুটির দাম বাড়ার বিপরীতে ৩০টির দাম কমেছে এবং দুটির দাম অপরিবর্তিত থেকেছে।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিয়মিত ভালো মুনাফা বা ১০ শতাংশ কিংবা তার বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র ৪৫টির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে দাম কমেছে ১৩৯টির এবং ১৪টির দাম ছিল অপরিবর্তিত। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৮টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৫২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল চারটির দাম।
এছাড়া দীর্ঘদিন লভ্যাংশ না দেওয়ায় ‘জেড’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২৫টির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে ৭২টির দাম কমেছে এবং ২৩টির দাম রয়েছে অপরিবর্তিত।
দরপতনের এই প্রবণতার প্রভাবে ঢাকার বাজারের প্রধান মূল্যসূচক আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৩৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ পয়েন্টে। বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত সূচকটিও ৯ পয়েন্ট কমে নেমেছে ২ হাজার ১৯১ পয়েন্টে। আর শরিয়াহভিত্তিক সূচকটি পাঁচ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৮০ পয়েন্টের ঘরে।
সূচক নিম্নমুখী হলেও ঢাকার বাজারে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। এদিন মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় সাড়ে ১১৪৭ কোটি টাকা, যেখানে আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ১১১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৩৬ কোটি টাকার বেশি।
লেনদেনের শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, যার প্রায় ৪৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এরপর রয়েছে একটি বীমা প্রতিষ্ঠান, যার লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ২৪ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থানে থাকা একটি কীটনাশক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের লেনদেনও প্রায় একই পরিমাণ।
এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশের তালিকায় রয়েছে বন্দর-সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান, স্পিনিং খাতের কয়েকটি কোম্পানি, বস্ত্র খাতের একাধিক প্রতিষ্ঠান এবং জ্বালানি খাতের একটি কোম্পানি।
অন্যদিকে চট্টগ্রামের বাজারেও একই রকম নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। সেখানকার সার্বিক মূল্যসূচক কমেছে ৬৪ পয়েন্ট। লেনদেনে অংশ নেওয়া মোট ২৩৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৭টির দাম বেড়েছে, বিপরীতে দাম কমেছে ১২৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৩টির দাম। এই বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, টানা চার কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর হঠাৎ এই ব্যাপক দরপতন কিছুটা মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতারই ফল হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। তবে বাজারের সার্বিক গতিপ্রকৃতি বুঝতে আগামী কয়েক কার্যদিবসের প্রবণতার দিকে নজর রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

