Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice রবি, আগস্ট 9, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » এস আলমের কারখানা বন্ধে ডিএসইর বন্ধ কোম্পানির তালিকায় ৩৫
    পুঁজিবাজার

    এস আলমের কারখানা বন্ধে ডিএসইর বন্ধ কোম্পানির তালিকায় ৩৫

    নিউজ ডেস্কআগস্ট 8, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সংকটের বিষয় নয়; এর সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে থাকে বিনিয়োগকারীদের অর্থ, বাজারের স্বচ্ছতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকারিতা। সাম্প্রতিক সময়ে নিষ্ক্রিয় ও বন্ধ কোম্পানির সংখ্যা বাড়তে থাকায় দেশের পুঁজিবাজারে সেই উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

    এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলসের কারখানা বন্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বন্ধ বা উৎপাদনহীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫-এ। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে। এর পর থেকেই কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    কারখানা বন্ধের প্রভাব ইতিমধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারের দামেও দেখা যাচ্ছে। ১ আগস্ট কারখানা বন্ধ হওয়ার পর থেকে শেয়ারের দর কমেছে ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। বৃহস্পতিবারও শেয়ারের দাম ২ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে ১২ টাকা ৭০ পয়সায় নেমে এসেছে।

    তবে শুধু শেয়ারের দরপতনই উদ্বেগের কারণ নয়। কোম্পানিটি ২০২৪ সালের মার্চে শেষ হওয়া প্রান্তিকের পর আর কোনো আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করেনি। চলতি বছরের শুরুতেই বার্ষিক সাধারণ সভা করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ‘বি’ শ্রেণি থেকে ‘জেড’ শ্রেণিতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার প্রকৃত চিত্র নিয়েও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

    কেন বন্ধ হলো কারখানা

    ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে দেওয়া এক বিবৃতিতে এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস জানিয়েছে, তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে তৈরি হওয়া কিছু অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

    কোম্পানিটির দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই তাদের ব্যাংক হিসাবগুলো জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে ঋণদাতা ব্যাংকগুলো ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করে।

    এর ফলে কারখানায় প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও রাসায়নিক আমদানিতে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়। উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সময়মতো সংগ্রহ করতে না পারায় কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে থাকে।

    এর সঙ্গে যুক্ত হয় দক্ষ কর্মীর সংকট। একপর্যায়ে বেশ কিছু দক্ষ কর্মী প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যাওয়ায় জনবলের ঘাটতিও তীব্র হয়ে ওঠে।

    অর্থাৎ কাঁচামালের সংকট, রাসায়নিক উপকরণ আমদানির সমস্যা এবং দক্ষ কর্মীর অভাব—এই তিন ধরনের চাপ একসঙ্গে তৈরি হওয়ায় উৎপাদন চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

    কোম্পানিটি জানিয়েছে, সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবার উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে দ্রুত উৎপাদন শুরু করতে না পারলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা।

    শেয়ারে বাড়ছে চাপ

    কারখানা বন্ধের খবর বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বাভাবিকভাবেই নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। উৎপাদন বন্ধ থাকলে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আয় কমে যায়, অথচ কর্মী, ঋণ, স্থাপনা ও অন্যান্য ব্যয়ের চাপ অব্যাহত থাকে।

    এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলসের ক্ষেত্রেও সেই আশঙ্কাই তৈরি হয়েছে।

    ১ আগস্ট কারখানা বন্ধ হওয়ার পর কোম্পানিটির শেয়ারের দর ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ কমেছে। বৃহস্পতিবারও দরপতনের ধারাবাহিকতা ছিল। ওই দিন শেয়ারের দাম ২ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে ১২ টাকা ৭০ পয়সায় নেমে আসে।

    তবে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কারখানা বন্ধ হওয়ার ঘটনা দিয়েই শুরু হয়নি। এর আগেই কোম্পানিটির আর্থিক তথ্য প্রকাশে দীর্ঘ বিরতি তৈরি হয়েছিল।

    ২০২৪ সালের মার্চে শেষ হওয়া প্রান্তিকের পর প্রতিষ্ঠানটি আর কোনো আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করেনি। ফলে বর্তমানে কোম্পানির আয়, ব্যয়, ঋণ, সম্পদ ও দায়ের প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।

    পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতার জন্য নিয়মিত আর্থিক তথ্য প্রকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তথ্যের ঘাটতি থাকলে বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং গুজব ও অনুমাননির্ভর লেনদেনের ঝুঁকি বাড়ে।

    ডিএসইতে বন্ধ কোম্পানি এখন ৩৫

    এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস নতুন করে যুক্ত হওয়ায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বন্ধ বা উৎপাদনহীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এখন ৩৫।

    এই তালিকার কোম্পানিগুলোর পরিস্থিতি একরকম নয়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান সরাসরি তাদের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার কথা জানিয়েছে। আবার কিছু কোম্পানি কারখানা বন্ধের বিষয়টি যথাযথভাবে প্রকাশ করেনি। পরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

    তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ কোম্পানি ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করেছে। তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এরও অনেক আগে থেকে নিষ্ক্রিয়।

    মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ ২০০২ সাল থেকে বন্ধ। ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠান।

    বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডসও ২০১৬ সাল থেকে উৎপাদনহীন।

    এই তালিকায় ইস্পাত, বস্ত্র, বিদ্যুৎ, সিমেন্ট, প্রকৌশল, সিরামিক, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রাসায়নিকসহ বিভিন্ন খাতের কোম্পানি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তালিকায় যুক্ত হয়েছে অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালস, এএফসি অ্যাগ্রো বায়োটেক এবং এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস।

    নিষ্ক্রিয় কোম্পানি কেন বড় সমস্যা

    একটি কোম্পানি সাময়িক সমস্যায় পড়ে উৎপাদন বন্ধ করতেই পারে। ব্যবসায়িক বাস্তবতায় এটি অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ রেখেও যদি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত থাকে, তাহলে বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়।

    কারণ তালিকাভুক্ত একটি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আটকে থাকে। কোম্পানি উৎপাদন না করলে আয় কমে যায়, মুনাফা করার সক্ষমতা নষ্ট হয় এবং শেষ পর্যন্ত শেয়ারের মূল্যও চাপের মুখে পড়ে।

    আর যদি কোম্পানি নিয়মিত আর্থিক বিবরণী প্রকাশ না করে, বার্ষিক সাধারণ সভা না করে বা বিনিয়োগকারীদের পর্যাপ্ত তথ্য না দেয়, তাহলে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ে।

    এ ধরনের কোম্পানিকে ঘিরে গুজবনির্ভর লেনদেনের সুযোগও তৈরি হতে পারে। কোনো বাস্তব ব্যবসায়িক কার্যক্রম ছাড়াই শুধু শেয়ারের দামের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে লেনদেন হলে বাজারের শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    এই কারণেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বন্ধ বা নিষ্ক্রিয় কোম্পানিগুলোর তালিকা প্রকাশ করে আসছে। এর উদ্দেশ্য হলো বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করা এবং এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়ানো।

    তালিকাভুক্ত ৩৬০ কোম্পানির মধ্যে জেড শ্রেণিতে ১২৬

    ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট ৩৬০টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে।

    এর মধ্যে ১৬০টি ‘এ’ শ্রেণিতে, ৭৪টি ‘বি’ শ্রেণিতে এবং ১২৬টি ‘জেড’ শ্রেণিতে রয়েছে।

    ‘জেড’ শ্রেণির কোম্পানিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়িকভাবে দুর্বল, নিষ্ক্রিয় অথবা নিয়মিত পুঁজিবাজারের বিধিবিধান পরিপালনে ব্যর্থ।

    এ কারণে ‘জেড’ শ্রেণিতে থাকা কোম্পানির সংখ্যা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি পুঁজিবাজারের সামগ্রিক স্বাস্থ্য নিয়েও একটি বার্তা দেয়।

    বিশেষ করে কোনো কোম্পানি দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ রাখার পরও যদি বছরের পর বছর তালিকাভুক্ত অবস্থায় থাকে, তাহলে বিনিয়োগকারীদের অর্থের কার্যকর ব্যবহার ও বাজারের স্বচ্ছতা—দুই বিষয়ই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

    কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন

    ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার জানিয়েছেন, নিষ্ক্রিয় কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম ও শেয়ারের দামের গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব কোম্পানির ব্যবস্থাপনার সঙ্গে আলোচনা করে তারা কীভাবে আবার ব্যবসা শুরু করতে পারে এবং পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা কী, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    তিনি আরও জানিয়েছেন, নিষ্ক্রিয় কোম্পানির বিষয়ে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্তি ও তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিধিমালা হালনাগাদ করার কাজ চলছে।

    ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন মনে করেন, অনেক তালিকাভুক্ত কোম্পানি বছরের পর বছর নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। কোনো কোম্পানি বারবার লভ্যাংশ ঘোষণা করতে ব্যর্থ হলে, বার্ষিক সাধারণ সভা না করলে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ফি পরিশোধ না করলে এবং ব্যবসা পরিচালনা না করলে শেষ পর্যন্ত সেটি ‘জেড’ শ্রেণিতে চলে যেতে পারে।

    এরপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।

    কিন্তু বাস্তবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘ এবং জটিল। বিদ্যমান আইনি কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণেও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

    তালিকা থেকে বাদ দেওয়াই কি সমাধান?

    পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের সামনে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোকে কি পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ দেওয়া হবে, নাকি কার্যক্রম ফেরানোর সম্ভাবনা নেই এমন প্রতিষ্ঠানকে বাজার থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে?

    সব কোম্পানির ক্ষেত্রে একই ব্যবস্থা কার্যকর নাও হতে পারে।

    যে কোম্পানির ব্যবসা পুনরায় চালুর বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে, সেটিকে পুনর্গঠন, নতুন উদ্যোক্তা, একীভূতকরণ বা মালিকানা পরিবর্তনের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

    অন্যদিকে কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা পুনরায় চালুর সম্ভাবনা না থাকলে বছরের পর বছর সেটিকে তালিকাভুক্ত রেখে দেওয়া বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনে না।

    বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, বিদ্যমান আইন ও তালিকাভুক্তির বিধিমালা অনুযায়ী বছরের পর বছর বন্ধ থাকা বা আর্থিক বিবরণী প্রকাশে ব্যর্থ কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা স্টক এক্সচেঞ্জের রয়েছে।

    ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বিধি অনুযায়ী যে সিদ্ধান্ত নেবে, প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক সহায়তা দেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

    শুধু বন্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না

    নিষ্ক্রিয় কোম্পানির সংখ্যা কমাতে শুধু তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। কারণ একটি কোম্পানি কীভাবে নিষ্ক্রিয় হলো, বিনিয়োগকারীদের অর্থ কোথায় গেল এবং উদ্যোক্তাদের দায় কতটা—এসব প্রশ্নেরও উত্তর প্রয়োজন।

    কোনো প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটে পড়ে বন্ধ হয়ে গেলে তার সম্পদ, দায়, ব্যাংকঋণ এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ কীভাবে সুরক্ষিত হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

    একই সঙ্গে নিয়মিত আর্থিক বিবরণী প্রকাশ, বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজন এবং বিনিয়োগকারীদের তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

    প্রয়োজনে পুনর্গঠন, উদ্যোক্তা পরিবর্তন, একীভূতকরণ বা অধিগ্রহণের পথও খোলা রাখতে হবে। আর এসব কোনো পথেই যদি কোম্পানিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হয়, তাহলে দীর্ঘসূত্রতা না করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    বিনিয়োগকারীদের আস্থাই সবচেয়ে বড় বিষয়

    বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট নতুন নয়। এর মধ্যে ৩৫টি কোম্পানির দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

    একটি কোম্পানি বন্ধ থাকলেও তার শেয়ার যদি বাজারে লেনদেনযোগ্য থাকে, তাহলে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন থাকে—প্রতিষ্ঠানটি আদৌ ঘুরে দাঁড়াবে কি না, তাদের বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ কী এবং কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা কতটা খারাপ।

    এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলসের ঘটনাটি তাই কেবল একটি কারখানা বন্ধ হওয়ার ঘটনা নয়। এটি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে নিষ্ক্রিয় কোম্পানি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

    ৩৬০টি তালিকাভুক্ত কোম্পানির বাজারে ৩৫টি প্রতিষ্ঠান যদি দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ বা উৎপাদনহীন থাকে, তাহলে বাজারের সামগ্রিক কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।

    এখন প্রয়োজন দ্রুত, স্বচ্ছ ও বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত। যেসব কোম্পানি পুনরায় ব্যবসায় ফিরতে পারে, তাদের জন্য পুনর্গঠনের পথ তৈরি করতে হবে। আর যেসব প্রতিষ্ঠানের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নেই, সেগুলোর বিষয়ে দীর্ঘসূত্রতা বাদ দিয়ে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

    কারণ একটি সুস্থ পুঁজিবাজারে শুধু নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ নয়; দুর্বল ও অকার্যকর কোম্পানির বিষয়ে সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    পুঁজিবাজার

    শেয়ারবাজারে ক্ষতি হলে টাকা আসলে কোথায় যায়?

    আগস্ট 8, 2026
    পুঁজিবাজার

    দাম বাড়ার তালিকায় শীর্ষে পচা কোম্পানির শেয়ার

    আগস্ট 8, 2026
    পুঁজিবাজার

    পুঁজিবাজারে সাপ্তাহিক লেনদেনে সূচক পতন

    আগস্ট 8, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.