গত সপ্তাহে দেশের পুঁজিবাজারে চার কার্যদিবস জুড়েই দেখা গেছে সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা। প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক সূচক কমেছে প্রায় এক শতাংশ, আর অন্যান্য সূচকগুলোতেও ছিল একই ধরনের পতনের ধারা। এই সময়ে এক্সচেঞ্জটিতে মোট লেনদেন হয়েছে চার হাজার সাতশ সাতাশ কোটি টাকার। একই সময়ে দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জেও সূচক নিম্নমুখী ছিল।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় পঁয়ত্রিশ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার আটশ একষট্টি পয়েন্টে। নির্বাচিত কোম্পানিভিত্তিক সূচকটি পঁচিশ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার একশ বিরানব্বই পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহে ছিল দুই হাজার দুইশ সতেরো পয়েন্ট। শরিয়াহভিত্তিক সূচকও পনেরো পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার আটশ একাশি পয়েন্টে।
আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইতে মোট তিনশ ঊননব্বইটি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে একশ আটাশিটির, কমেছে একশ ঊনআশিটির, আর অপরিবর্তিত ছিল বাইশটির শেয়ারদর, বাইশটির লেনদেনই হয়নি। সূচকের এই পতনে সবচেয়ে বড় প্রভাব রেখেছে কয়েকটি বহুজাতিক ও ব্যাংকিং খাতের কোম্পানির শেয়ার।
তবে লেনদেনের পরিমাণ বিচারে ইতিবাচক প্রবণতাও দেখা গেছে। ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন দাঁড়িয়েছে এক হাজার একশ বিরাশি কোটি টাকায়, যা আগের সপ্তাহের এক হাজার ষাট কোটি টাকার তুলনায় প্রায় বারো শতাংশ বেশি।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে মোট লেনদেনে সবচেয়ে বড় অংশ দখলে রেখেছে বস্ত্র খাত, যার হিস্যা ছিল বাইশ দশমিক এক শতাংশ। এরপর যথাক্রমে সাধারণ বীমা খাত চৌদ্দ শতাংশ, ওষুধ ও রসায়ন খাত সাড়ে এগারো শতাংশ, প্রকৌশল খাত প্রায় সাড়ে নয় শতাংশ এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাত প্রায় সাত শতাংশ লেনদেন নিয়ে শীর্ষ পাঁচে অবস্থান করেছে।
রিটার্নের বিচারে সবচেয়ে ভালো ফল দেখিয়েছে মিউচুয়াল ফান্ড খাত, যেখানে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে প্রায় পাঁচ শতাংশ। এছাড়া সাধারণ বীমা, জীবন বীমা, পাট ও সেবা খাতেও মোটামুটি ভালো রিটার্ন দেখা গেছে। বিপরীতে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে, প্রায় পৌনে তিন শতাংশ, এরপর সিরামিক ও সিমেন্ট খাতেও দরপতন লক্ষ করা গেছে।
চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জেও গত সপ্তাহে একই ধরনের পতনের চিত্র দেখা গেছে। এখানকার সার্বিক সূচক সামান্য কমে পনেরো হাজার সাতশ পঁচিশ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল পনেরো হাজার সাতশ ষাট পয়েন্ট। অন্য একটি সূচকও একইভাবে কমে নয় হাজার পাঁচশ একাশি পয়েন্টে নেমে এসেছে।
সিএসইতে গত সপ্তাহে মোট আশি কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এই এক্সচেঞ্জে লেনদেন হওয়া তিনশ ঊনত্রিশটি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে একশ ঊনআশিটির, কমেছে একশ সাতাশটির এবং অপরিবর্তিত ছিল তেইশটির শেয়ারদর।

