সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে দেশের দুই প্রধান শেয়ারবাজারে দেখা গেল মিশ্র প্রবণতা। রোববার লেনদেন শুরুর পর থেকেই সূচক কখনো ঊর্ধ্বমুখী, কখনো নিম্নমুখী গতিতে ওঠানামা করতে থাকে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্ক মনোভাব তৈরি করেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, লেনদেন শুরুর প্রথম পাঁচ মিনিটেই ঢাকার প্রধান সূচক প্রায় সাত পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে এই উত্থান বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র দশ মিনিট পরই সূচকটি ছয় পয়েন্ট কমে যায় এবং এরপর কিছুক্ষণ নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত থাকে। লেনদেন শুরুর কুড়ি মিনিটের মাথায় সূচক আগের দিনের তুলনায় তিন পয়েন্ট কমে সাড়ে পাঁচ হাজার আটশর ঘরে নেমে আসে।
তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি দেখা যায়। লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টা পর, অর্থাৎ সকাল সাড়ে দশটায়, ঢাকার সাধারণ সূচক আগের দিনের তুলনায় আট পয়েন্ট বেড়ে প্রায় পাঁচ হাজার আটশ ঊনসত্তর পয়েন্টে গিয়ে ঠেকে। একই সময়ে শরিয়াহভিত্তিক সূচক দুই পয়েন্ট এবং নির্বাচিত ভালো কোম্পানিগুলোর সূচক এক পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।
এই সময় পর্যন্ত ঢাকার বাজারে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৬৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৩৩টির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ১৫৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম, আর প্রায় ৯২টি কোম্পানির শেয়ারদর অপরিবর্তিত থেকেছে।
সকাল সাড়ে দশটা পর্যন্ত সময়ে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে একটি বিমা প্রতিষ্ঠান, একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান, একটি ডায়িং কোম্পানি, সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট একটি বিমা প্রতিষ্ঠান, একটি বন্দর কোম্পানি, কাগজ উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠান, একটি ওষুধ কোম্পানি, স্টিল খাতের একটি প্রতিষ্ঠান এবং স্পিনিং খাতের একটি কোম্পানি।
এদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই সময়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টা পর সেখানকার প্রধান সূচক এক পয়েন্ট কমে প্রায় পনেরো হাজার সাতশ চব্বিশ পয়েন্টে অবস্থান করলেও, এরপর থেকেই সূচকটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখাতে শুরু করে। একই সময় পর্যন্ত চট্টগ্রামের বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৮৪ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট। এই বাজারে ১৮টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ১৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫টি কোম্পানির দর।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দিনের শুরুতে এই ধরনের ওঠানামা বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়া এবং নতুন করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রতিফলন হতে পারে। সামগ্রিক প্রবণতা বুঝতে বাজার বিশেষজ্ঞরা পুরো কর্মদিবস শেষে লেনদেনের চূড়ান্ত চিত্র পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন।

