সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই দরপতনের মুখে পড়ল দেশের শেয়ারবাজার। সূচক ও লেনদেন দুটোই নিম্নমুখী থাকল গতকাল, আর টানা সাত কার্যদিবস পর প্রধান পুঁজিবাজারের দৈনিক লেনদেন নেমে এল হাজার কোটি টাকার নিচে।
দিনের শুরু থেকেই ঢাকার পুঁজিবাজারে দরপতনের ধারা লক্ষ করা যায়, যা দিনশেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। প্রধান সূচক আগের দিনের তুলনায় প্রায় উনচল্লিশ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার আটশ বাইশ পয়েন্টে গিয়ে ঠেকে, যেখানে আগের কার্যদিবসে এটি ছিল পাঁচ হাজার আটশ একষট্টি পয়েন্টে। নির্বাচিত কোম্পানিভিত্তিক সূচকও পনেরো পয়েন্টের মতো কমে দুই হাজার একশ সাতাত্তর পয়েন্টে নেমেছে। শরিয়াহভিত্তিক সূচকেও সাত পয়েন্টের পতন দেখা গেছে, যা নেমেছে এক হাজার একশ চুয়াত্তর পয়েন্টে। এই পতনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তামাক, ব্যাংকিং, ইস্পাত ও ওষুধ খাতের কয়েকটি বড় কোম্পানির শেয়ারদর কমে যাওয়া।
লেনদেনের হিসাবেও একই রকম নিম্নমুখী চিত্র। গতকাল প্রধান এক্সচেঞ্জে হাতবদল হয়েছে প্রায় নয়শ পঁয়ষট্টি কোটি টাকার শেয়ার, যেখানে আগের কার্যদিবসে এই অঙ্ক ছিল এক হাজার একশ আটচল্লিশ কোটি টাকা। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে একবার লেনদেন আটশ বাহাত্তর কোটি টাকায় নেমে গিয়েছিল, এরপর থেকে টানা সাত কার্যদিবস ধরে তা হাজার কোটি টাকার ওপরে থাকলেও গতকাল আবার সেই সীমা ভেঙে নিচে নেমে যায়। এদিন লেনদেন হওয়া প্রায় চারশ কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ডের মধ্যে মাত্র পঁচাত্তরের কিছু বেশি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে, আর দুইশ পঁচাশির বেশি প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে। বাকিগুলোর দর অপরিবর্তিত ছিল।
খাতভিত্তিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ ছিল বস্ত্র খাতের, যা মোট লেনদেনের প্রায় একুশ শতাংশ দখলে রেখেছে। এর ঠিক পরেই অবস্থান সাধারণ বীমা খাতের, যার ভাগ ছিল প্রায় ষোলো শতাংশ। প্রকৌশল খাত প্রায় দশ শতাংশ, ওষুধ ও রসায়ন খাত সাড়ে নয় শতাংশ এবং ব্যাংক খাত প্রায় সাড়ে সাত শতাংশ লেনদেন নিয়ে যথাক্রমে পরের স্থানগুলোতে ছিল।
রিটার্নের হিসাবে তাকালে দেখা যায়, গতকাল বেশির ভাগ খাতেই বিনিয়োগকারীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। মিউচুয়াল ফান্ড খাতে সবচেয়ে বেশি, প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে প্রায় দুই শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে পৌনে দুই শতাংশ, জীবন বীমা খাতে দেড় শতাংশের কাছাকাছি এবং সেবা খাতে সোয়া এক শতাংশ দরপতন হয়েছে। তবে সব খাতই নেতিবাচক ছিল না—কাগজ খাতে বিনিয়োগকারীরা প্রায় এক শতাংশ মুনাফা পেয়েছেন, বিবিধ ও পাট খাতেও সামান্য ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজারেও একই রকম নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। সেখানকার নির্বাচিত সূচক প্রায় ঊনষাট পয়েন্ট কমে নয় হাজার পাঁচশ একুশ পয়েন্টে নেমেছে, আর সার্বিক মূল্য সূচক একশ সাত পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে পনেরো হাজার ছয়শ আঠারো পয়েন্টে। এখানে লেনদেন হওয়া দুইশ পনেরোটি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে বাহান্নটির দর বেড়েছে, একশ ঊনচল্লিশটির দর কমেছে এবং চব্বিশটির দর অপরিবর্তিত থেকেছে। তবে এই বাজারে সামগ্রিক লেনদেনের পরিমাণ আগের কার্যদিবসের তুলনায় সামান্য বেড়ে প্রায় একত্রিশ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের দিন ছিল প্রায় ত্রিশ কোটি টাকা।
সব মিলিয়ে সপ্তাহের প্রথম দিনের এই নিম্নমুখী প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা সতর্কতা ও অনিশ্চয়তার আভাস দিচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কার্যদিবসগুলোতে লেনদেনের গতি ও সূচকের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে দেবে এই পতন সাময়িক নাকি দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতার ইঙ্গিত।

