দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর একটি সিটি গ্রুপ এবার পা রাখতে যাচ্ছে পুঁজিবাজারে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের ইকুইটি বাজার থেকে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা হবে এই খাতে গ্রুপটির প্রথম প্রবেশ।
বৃহস্পতিবার সিটি গ্রুপের করপোরেট প্রধান কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সিটি গ্রুপ।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্যমতে, ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ও অর্থায়নের চাহিদা মেটাতে বিদ্যমান অর্থায়ন ব্যবস্থার পাশাপাশি পুঁজিবাজারকে একটি টেকসই বিকল্প উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছে তারা। এই উদ্যোগের ফলে একদিকে নতুন ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিটি গ্রুপ বাজারে যুক্ত হবে, অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের জন্যও তৈরি হবে নতুন একটি বিনিয়োগ সুযোগ।
এই তহবিল সংগ্রহ প্রক্রিয়ার ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছে লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস পিএলসি। সম্ভাব্য অর্থায়ন কাঠামোর মধ্যে থাকতে পারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), প্রাইভেট ইকুইটি, প্রেফারেন্স শেয়ার, করপোরেট বন্ড, সুকুকসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত অন্যান্য পুঁজিবাজার উপকরণ। সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে পুরো ইস্যু ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেবে এই প্রতিষ্ঠানটি, আর লেনদেন-সংক্রান্ত ব্যাংকিং সেবা ও অবকাঠামো সরবরাহে ব্যাংকিং পার্টনার হিসেবে যুক্ত থাকবে ওয়ান ব্যাংক পিএলসি।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ প্রতিষ্ঠানের স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস এবং ওয়ান ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সিটি গ্রুপ বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করছে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে এবং বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত। ভোজ্যতেল, আটা-ময়দা, চিনি, ডাল, চাল ও প্রাণিখাদ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য এবং শিল্পপণ্যের ব্যবসার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্লেষকদের মতে, সিটি গ্রুপের মতো বড় শিল্পগোষ্ঠীর পুঁজিবাজারে প্রবেশ দেশের করপোরেট খাতের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে। বিশেষ করে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের গণ্ডি পেরিয়ে পুঁজিবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

