দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছে বিক্রেতাদের চাপের মধ্যে দিয়ে। দিনভর বিক্রির প্রবণতা প্রাধান্য পাওয়ায় তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর নিম্নমুখী থেকেছে। এর ফলে বাজারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪০ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট হারিয়ে দিন শেষে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৭৩ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে।
শুধু প্রধান সূচকই নয়, পতনের ছাপ পড়েছে অন্যান্য সূচকেও। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ডিএসইএস সূচক ৭ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৫০ দশমিক ২১ পয়েন্টে। এছাড়া বাজারের বড় ও ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ১১ দশমিক ১৯ পয়েন্ট কমে নেমে এসেছে ২ হাজার ১৬৪ দশমিক ৪৭ পয়েন্টে।
দিনের লেনদেনে অংশ নেওয়া মোট ৩৯০টি কোম্পানি ও সিকিউরিটিজের মধ্যে দরপতনের শিকার হয়েছে ২৬৬টি প্রতিষ্ঠান, যেখানে দাম বেড়েছে মাত্র ৭৭টির। বাকি ৪৭টির দরে কোনো পরিবর্তন আসেনি। অর্থাৎ বিক্রেতাদের আধিপত্যই ছিল দিনের বাজারচিত্রে স্পষ্ট।
লেনদেনের পরিমাণের দিক থেকে দেখা যায়, সারাদিনে ডিএসইতে সম্পন্ন হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৮৩টি লেনদেন, যার মাধ্যমে হাতবদল হয়েছে ৩১ কোটি ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮৯৬টি শেয়ার ও ইউনিট। এসব লেনদেনের সম্মিলিত আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৯৮ কোটি ১০ লাখ টাকার বেশি।
ক্যাটাগরিভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভালো মৌলভিত্তির ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত ১৯৮টি কোম্পানির মধ্যে ১২৯টিরই দর কমেছে, বেড়েছে মাত্র ৪৬টির এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ২৩টি। ‘বি’ ক্যাটাগরির ৭৪টি কোম্পানির মধ্যে ৬৫টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে কেবল সাতটির। আর তুলনামূলক দুর্বল মৌলভিত্তির ‘জেড’ ক্যাটাগরির ১১৮টি কোম্পানির মধ্যে ৭২টির দর কমলেও বেড়েছে ২৪টির।
মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে কিছুটা মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। মোট ৩৪টি ইউনিটের মধ্যে ১০টির দাম বেড়েছে, ১২টির কমেছে এবং বাকি ১২টি অপরিবর্তিত ছিল। করপোরেট বন্ড খাতে তিনটি ইস্যুর মধ্যে দুটির দর বেড়েছে এবং একটির কমেছে। তবে সরকারি সিকিউরিটিজ বা জি-সেক খাতে সার্বিক চিত্র ছিল নেতিবাচক—তালিকাভুক্ত তিনটি ইস্যুরই দাম কমেছে।
সামগ্রিকভাবে মঙ্গলবারের লেনদেন চিত্র থেকে স্পষ্ট, বাজারে বিক্রির চাপ ক্রেতাদের আগ্রহের তুলনায় অনেক বেশি ছিল, যা প্রধান সূচকের পাশাপাশি প্রায় সব ক্যাটাগরির শেয়ারদরেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

