ঢাকা: গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের উদ্বেগের মধ্যেই দরপতন কাটিয়ে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) উত্থানের মুখ দেখেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। সাম্প্রতিক দরপতনে শেয়ারদর যখন অনেকের কাছে ক্রয়যোগ্য পর্যায়ে চলে আসে, তখনই সুযোগ বুঝে শেয়ার কিনতে শুরু করেন বিনিয়োগকারীরা। তবে লেনদেনের পরিমাণ ছিল নিম্নমুখী, যা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানকেই ইঙ্গিত দেয়।
সকাল সাড়ে ১০টায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩২ পয়েন্ট বা ০.৫৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৬৭৩ পয়েন্টে। ব্লু-চিপ শেয়ারগুলোর সূচক ডিএস৩০ বেড়ে হয় ২ হাজার ১৩৪ পয়েন্ট, আর শরিয়াভিত্তিক ডিএসইএস সূচক বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ১৩৪ পয়েন্টে।
তবে এই উত্থানকে এখনই টেকসই বলতে নারাজ বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, চলমান জ্বালানি সংকট ও তার সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের শঙ্কা এখনো কাটেনি। এর ফলে বাজার ঘুরে দাঁড়ালেও লেনদেনের পরিমাণ ছিল খুবই কম; প্রথম দেড় ঘণ্টায় ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৬১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
তবে বাজারের সামগ্রিক চিত্র ছিল ইতিবাচক। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩১০টির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে মাত্র ২২টির, আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫২টি কোম্পানির শেয়ার। এই বিস্তৃত উত্থান ইঙ্গিত দেয় যে অনেক কোম্পানিতেই ক্রয় আগ্রহ রয়েছে। তবে কম লেনদেন প্রমাণ করে যে বড় অঙ্কের বিনিয়োগে এখনো সতর্কতা অবলম্বন করছেন বিনিয়োগকারীরা।
এদিন লেনদেনের শীর্ষে ছিল শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ – যার ৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অবশ্য ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ঢাকার উত্থানের বিপরীতে সিএসইয়ের সব শেয়ার মূল্যসূচক (ক্যাসপি) ১৩ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ১৪৮ এবং সিএসই সিলেক্টিভ ক্যাটাগরিজ সূচক (সিএসসিএক্স) ১১ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ২৪৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। দুই বাজারের এই মিশ্র চিত্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চলমান অনিশ্চয়তাকেই প্রতিফলিত করে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারে দরপতনে কেনার সুযোগ তৈরি হলেও জ্বালানি সংকটের প্রভাব কাটিয়ে ওঠা না গেলে বাজারের স্থিতিশীলতা ফেরা কঠিন হবে।

