আর্থিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানিটির জীবন বিমা তহবিলের নেতিবাচক স্থিতি আরও বেড়েই চলেছে। চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাবে এই তহবিলের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩২৭ কোটি ২০ লাখ টাকায়।
আজ রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে এই আর্থিক তথ্য প্রকাশ করেছে বিমা খাতের প্রতিষ্ঠানটি।
প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে জীবন রাজস্ব হিসাবে মোট আয় থেকে সব ধরনের ব্যয় ও দাবি বাদ দেওয়ার পর ৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকার ঘাটতি দেখা গেছে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রান্তিকভিত্তিক হিসাবে ঘাটতি কিছুটা কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
একইভাবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসের হিসাবে জীবন রাজস্ব খাতে ঘাটতি হয়েছে ৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৫ কোটি ৯ লাখ টাকা। তবে প্রান্তিক ও ষাণ্মাসিক হিসাবে ঘাটতি কমার এই প্রবণতা সত্ত্বেও সামগ্রিক তহবিলের অবস্থা কিন্তু আরও খারাপের দিকে গেছে।
কোম্পানির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত জীবন বিমা তহবিলের ঘাটতি ছিল ৩০৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা, যা এক বছরের ব্যবধানে বেড়ে চলতি বছরের একই সময়ে দাঁড়িয়েছে ৩২৭ কোটি ২০ লাখ টাকায়—অর্থাৎ মাত্র এক বছরে তহবিলের ঘাটতি বেড়েছে প্রায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকা।
তহবিল ঋণাত্মক থাকার কারণে গ্রাহকদের বিমা দাবি পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, শতকোটি টাকার বেশি পরিমাণ বিমা দাবি এখনও পরিশোধ হয়নি, যা গ্রাহকদের জন্য বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ফলে একদিকে গ্রাহকদের পাওনা মেটানো, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তি পুনরুদ্ধার করা—উভয় বিষয়ই এখন কোম্পানিটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উদ্বেগজনক এই চিত্র উঠে এসেছে গত বছরের আর্থিক প্রতিবেদনের নিরীক্ষাতেও, যেখানে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম টিকিয়ে রাখার সক্ষমতা নিয়েই সংশয় প্রকাশ করেছে।
মূলত দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক টানাপোড়েনে ভুগছে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। প্রিমিয়াম বাবদ আয় ও অন্যান্য আয়ের তুলনায় ব্যয়ের চাপ অনেক বেশি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি ক্রমাগত আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে শেয়ারহোল্ডারদের ওপরও—২০২১ সালের পর থেকে কোনো লভ্যাংশই দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
২০১২ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া এই কোম্পানির বর্তমান পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ প্রায় ২৭৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বাইরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে প্রায় সাড়ে ৬৮ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা। বিশ্লেষকদের মতে, তহবিলের এই ধারাবাহিক ঘাটতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনা গেলে ভবিষ্যতে গ্রাহকদের আস্থা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

