সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার দেশের পুঁজিবাজারে দেখা গেছে সূচকের চোখে পড়ার মতো উত্থান। টানা ছয় কার্যদিবস ধরে চলা দরপতনের ধারা কাটিয়ে এদিন বাজারে এই ইতিবাচক গতি ফিরে আসে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের পরিমাণ বাড়লেও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) তা কিছুটা কমেছে বলে জানা গেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স এদিন তিরানব্বই পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার চারশ বাহাত্তরের ঘরে অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক সূচক ও ডিএসই-৩০ সূচকেও উত্থান দেখা গেছে, যা যথাক্রমে ষোলো ও চব্বিশ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে এগারোশ ও দুই হাজার সাতাশির কিছু বেশিতে।
লেনদেনের পরিমাণের দিক থেকে এদিন ডিএসইতে শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড মিলিয়ে প্রায় পাঁচশ পাঁচ কোটি টাকার হাতবদল হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় আঠারো কোটি টাকা বেশি। মোট তিনশত চুরানব্বইটি কোম্পানি ও ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে এদিন, যার মধ্যে তিনশত ছত্রিশটির দাম বেড়েছে, একুশটির কমেছে এবং সাঁইত্রিশটির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিন লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় ছিল আর্থিক ও বীমা খাতের পাশাপাশি বস্ত্র খাতের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান— যার মধ্যে ছিল আইপিডিসি, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন ব্যাংক, সার্প ইন্ডাস্ট্রি, এনভয় টেক্সটাইল, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, সায়হাম টেক্সটাইল, মার্কেন্টাইল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, মালেক স্পিনিং ও প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে— সার্বিক সূচক সিএএসপিআই চুয়াল্লিশ পয়েন্ট বেড়ে চৌদ্দ হাজার পাঁচশ আটানব্বইয়ের ঘরে পৌঁছেছে। এদিন হাতবদল হওয়া একশ একাশিটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একশ পাঁচটির দর বেড়েছে, একষট্টিটির কমেছে এবং পনেরোটির অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে লেনদেনের পরিমাণে সামান্য ভাটা দেখা গেছে এই বাজারে— প্রায় উনিশ কোটি বিশ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় দুই কোটি টাকা কম।
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, টানা কয়েক দিনের দরপতনের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থা ফেরার এই ইঙ্গিত পুঁজিবাজারের জন্য স্বস্তিদায়ক হতে পারে, যদিও একদিনের এই উত্থানকে স্থায়ী প্রবণতা হিসেবে ধরে নেওয়ার আগে আগামী কয়েক কার্যদিবসের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

