দীর্ঘদিনের নিম্নমুখী ধারা কাটিয়ে দেশের শেয়ারবাজারে ঘুরে দাঁড়ানোর একটি স্পষ্ট আভাস দেখা যাচ্ছে। বুধবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে টানা দ্বিতীয় কার্যদিবসের মতো অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, যার ফলে দুই বাজারেই মূল্যসূচক ও লেনদেনের পরিমাণ—দুটোই বৃদ্ধি পেয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ধারাবাহিক দরপতনের কারণে সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক গত সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। এই বিপর্যয়কর অবস্থার পরই মঙ্গলবার বাজারে হঠাৎ একটি বড় উত্থান দেখা দেয়, যেদিন প্রধান সূচক তেয়াশি পয়েন্ট বেড়ে যায়। সেই ইতিবাচক ধারা বজায় রেখেই বুধবার লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ শেয়ারের দাম বাড়ার মধ্য দিয়ে, এবং দিনভর এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে।
দিন শেষে দেখা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সব খাত মিলিয়ে মোট একশ আশিটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে দাম কমেছে একশ তিপ্পান্নটির এবং বাষট্টিটির দাম অপরিবর্তিত থেকেছে।
শ্রেণিভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিয়মিত দশ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ভালো কোম্পানিগুলোর মধ্যে ঊনআশিটির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে পঁচানব্বইটির দর কমেছে এবং বিশটি অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা দশ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বত্রিশটির দাম বেড়েছে, ছাব্বিশটির কমেছে এবং ষোলোটি অপরিবর্তিত থেকেছে।
এ ছাড়া লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে জেড শ্রেণিতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ঊনসত্তরটির দাম বেড়েছে, বত্রিশটির কমেছে এবং সতেরোটি অপরিবর্তিত থেকেছে। মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন—কেবল দুটি ফান্ডের দাম বাড়লেও তেইশটির দাম কমেছে এবং আটটি অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম বাড়ার তালিকা তুলনামূলক দীর্ঘ হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক আগের দিনের তুলনায় একুশ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার চারশ চুরানব্বই পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচিত ত্রিশটি ভালো কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত সূচকটি পাঁচ পয়েন্ট বেড়ে দুই হাজার বিরানব্বই পয়েন্টে উঠেছে, এবং শরিয়াহভিত্তিক সূচকও পাঁচ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার নিরানব্বই পয়েন্টে পৌঁছেছে।
সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণেও প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। দিনভর ডিএসইতে মোট পাঁচশ ছাপ্পান্ন কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় একান্ন কোটি টাকা বেশি।
লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, যার লেনদেনের পরিমাণ প্রায় সাড়ে সতেরো কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা একটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে প্রায় সাড়ে ষোলো কোটি টাকার, আর তৃতীয় স্থানে থাকা একটি বস্ত্র খাতের কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে প্রায় সাড়ে ষোলো কোটি টাকার কিছু কম।
এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আরও রয়েছে একাধিক বস্ত্র খাতের কোম্পানি, একটি স্পিনিং মিল, একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, একটি বন্দর সংশ্লিষ্ট কোম্পানি এবং একটি বিমা প্রতিষ্ঠান।
দেশের অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই ধরনের ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া একশ ঊনআশিটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুরানব্বইটির দাম বেড়েছে, আটান্নটির কমেছে এবং সাতাশটি অপরিবর্তিত থেকেছে। এর ফলে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক বেড়েছে চুয়াত্তর পয়েন্ট, এবং লেনদেন হয়েছে প্রায় একুশ কোটি টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় সামান্য বেশি।
সব মিলিয়ে দুই বাজারের এই টানা ইতিবাচক ধারা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও এই উত্থান কতটা টেকসই হবে, তা নির্ভর করছে আগামী দিনের লেনদেনের গতিপ্রকৃতির ওপর।

