সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের দুই শেয়ারবাজারেই আজ বৃহস্পতিবার মিশ্র প্রবণতায় লেনদেন শুরু হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ—দুই বাজার সূত্রেই এই তথ্য জানা গেছে।
সকালের লেনদেনের প্রথম ভাগে ঢাকার বাজারে সূচকের বেশ কিছুটা ওঠানামা দেখা গেছে। লেনদেন শুরুর প্রথম পাঁচ মিনিটেই মূল সূচক পাঁচ পয়েন্ট কমে যায়। এরপর দশ মিনিট পার হতেই আরও তিন পয়েন্ট নিম্নমুখী হয় সূচক। এই নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত থাকে, এবং লেনদেন শুরুর কুড়ি মিনিট পর সূচক আগের দিনের তুলনায় ১২ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৪৮১ পয়েন্টে নেমে আসে।
তবে আধা ঘণ্টা পার হওয়ার পর পরিস্থিতিতে সামান্য পরিবর্তন আসে। সকাল সাড়ে দশটায় ঢাকার বাজারের সাধারণ সূচক আগের দিনের চেয়ে মাত্র এক পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৪৯২ পয়েন্টে স্থির হয়। এই সময়ের মধ্যে শরিয়াহভিত্তিক সূচক এক পয়েন্ট বেড়ে এবং আরেকটি প্রধান সূচক তিন পয়েন্ট কমে যথাক্রমে ১০৯৯ ও ২০৮৯ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। এই আধা ঘণ্টায় শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট মিলিয়ে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮১ কোটি টাকা।
এই সময়ের মধ্যে ঢাকার বাজারে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৪৬টির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ১৩৩টির এবং ৮৫টি কোম্পানির দরে কোনো পরিবর্তন হয়নি। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় উঠে আসে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে ছিল দুটি মিউচুয়াল ফান্ড, একটি ওষুধ কোম্পানি, বেশ কয়েকটি বস্ত্র ও স্পিনিং প্রতিষ্ঠান এবং একটি বেসরকারি ব্যাংক ও একটি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান।
এদিকে চট্টগ্রামের বাজারে দেখা গেছে একেবারে বিপরীত চিত্র। সকাল সাড়ে দশটায় সেখানকার মূল সূচক এক পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৬৭৫ পয়েন্টে ওঠে, এবং তারপর থেকে সূচকের গতি ছিল ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী। এই সময় পর্যন্ত চট্টগ্রামের বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এখানে ১৩টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ৯টির এবং তিনটি কোম্পানির দরে কোনো হেরফের হয়নি।
সার্বিকভাবে দুই বাজারের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দিনের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা সতর্ক ও সংমিশ্র মনোভাব বিরাজ করছে—ঢাকায় যেখানে সূচক এখনও নিম্নমুখী চাপে রয়েছে, চট্টগ্রামে তার বিপরীতে ধীরে ধীরে আস্থা ফিরতে দেখা যাচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দিনের বাকি সময়ে লেনদেনের গতিপ্রকৃতি বদলাতে পারে, এবং সামগ্রিক প্রবণতা স্পষ্ট হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

