সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। জ্বালানি সংকট পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত এবং তুলনামূলক কম দামে থাকা শেয়ার কেনার আগ্রহ বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে লেনদেনের শুরুতেই প্রধান সূচকগুলো ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে যায়।
সকাল ১১টা পর্যন্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫০ পয়েন্ট বা ০.৯০ শতাংশ বেড়ে ৫,৫৮০ পয়েন্টে অবস্থান করে। বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস৩০ বেড়েছে ১২ পয়েন্ট, যা দাঁড়িয়েছে ২,১১৩ পয়েন্টে। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএস ৮ পয়েন্ট বেড়ে ১,১১৫ পয়েন্টে পৌঁছায়।
বাজারের সার্বিক চিত্রেও ছিল ক্রেতাদের আধিপত্য। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩১০টির দর বেড়েছে, ২৭টির দর কমেছে এবং ৪০টি কোম্পানির শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত ছিল। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, বেশিরভাগ খাতেই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সক্রিয় ছিল।
তবে সূচকের এই উত্থানের সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণ এখনো খুব শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছায়নি। প্রথম এক ঘণ্টায় মোট লেনদেন হয়েছে ১৭৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ বাজারে ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা গেলেও বড় ধরনের অর্থপ্রবাহ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি।
এই সময়ে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ারে। প্রতিষ্ঠানটির ১৬ কোটি ৮০ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের অন্যতম উদাহরণ।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও দিনের শুরু ছিল ইতিবাচক। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক ৩০ পয়েন্ট বেড়ে ১৪,৭৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ১৯ পয়েন্ট বেড়ে ৯,০৪১ পয়েন্টে অবস্থান করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমায় বাজারে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে চাপের মধ্যে থাকা কিছু শেয়ারে কম দামে বিনিয়োগের সুযোগ দেখছেন অনেক বিনিয়োগকারী। তবে স্থায়ীভাবে বাজারের গতি ধরে রাখতে হলে লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি আস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

