জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারছে না দেশের শেয়ারবাজার। মঙ্গলবারও টানা দ্বিতীয় কার্যদিবসের মতো দরপতনের মুখে পড়ল প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। দুই বাজারেই দাম কমার তালিকায় নাম লেখানো প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল বেশি, আর সার্বিক মূল্যসূচকও নিম্নমুখী থেকে গেছে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, ডিএসইতে এদিন লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।
এর আগে বাজার টানা চার কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ছিল, যা গত রোববার পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। তবে সেই দিন রাতেই সরকার ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়ে দেয়। এই সিদ্ধান্তের প্রভাবে সোমবার প্রথমবার বড় দরপতন হয় বাজারে, আর মঙ্গলবারও সেই নেতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকে।
দিনের লেনদেনের শুরু থেকেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমতে দেখা যায়, ফলে সূচকও শুরুতেই নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। দিনের মাঝামাঝি সময়ে সূচক কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যায়ে আবার পতনের মুখে পড়ে। দিন শেষে দেখা যায়, ডিএসইতে মোট শতাধিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়লেও দ্বিগুণের বেশি প্রতিষ্ঠানের দাম কমেছে, আর বাকিগুলোর দাম অপরিবর্তিত থেকেছে।
এই দরপতনের চাপে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক আগের দিনের তুলনায় সামান্য কমে নেমে এসেছে। তবে ভালো মৌলভিত্তির নির্বাচিত ৩০ কোম্পানির সূচক এবং শরিয়াহভিত্তিক সূচক—দুটিই সামান্য বেড়েছে, যা কিছুটা ভিন্ন প্রবণতার আভাস দেয়।
সূচক কমলেও লেনদেনের পরিমাণ কিন্তু কমেনি, বরং সামান্য বেড়েছে। এদিন ডিএসইতে মোট প্রায় সাড়ে সাতশ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় কিছুটা বেশি। এই পরিমাণ লেনদেন গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জানা গেছে।
লেনদেনে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে একটি স্টিল খাতের প্রতিষ্ঠান, যার শেয়ার লেনদেন হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩৪ কোটি টাকার। এর পরের স্থানে রয়েছে একটি ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান, আর তৃতীয় স্থানে রয়েছে একটি শীর্ষ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি। লেনদেনের শীর্ষ দশের তালিকায় আরও রয়েছে টেক্সটাইল, গ্যালভানাইজিং, আইসক্রিম ও কীটনাশক খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও দাম কমার তালিকা তুলনামূলক বড় ছিল, ফলে সেখানকার সার্বিক মূল্যসূচকও কিছুটা কমেছে। এই বাজারে লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সাময়িক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক দরপতনে। তবে লেনদেনের পরিমাণ বাড়ার বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে বাজারে সক্রিয়তা এখনো অব্যাহত রয়েছে, যদিও দিক পরিবর্তনের জন্য বিনিয়োগকারীরা আরও স্পষ্ট নীতি সংকেতের অপেক্ষায় থাকতে পারেন।

