সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে বুধবার দেশের শেয়ারবাজারে দেখা গেছে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রবণতা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, দুই বাজারেই মূল্যসূচকের উল্লেখযোগ্য উত্থানের পাশাপাশি দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বিপুল সংখ্যক প্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে ঢাকার বাজারে লেনদেনের পরিমাণ আটশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
দিনের লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে, ফলে শুরু থেকেই সূচকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। দিনের শেষদিকে এই প্রবণতা আরও জোরদার হয়, এবং শেষ পর্যন্ত বড় উত্থান নিয়েই দিনের লেনদেন সমাপ্ত হয়।
লেনদেন শেষে ঢাকার বাজারে সব খাত মিলিয়ে দুইশ ছেচল্লিশটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে একশ দুইটির দাম কমেছে এবং সাঁইত্রিশটির দাম অপরিবর্তিত থেকেছে। শ্রেণিভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দশ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারী ভালো কোম্পানিগুলোর মধ্যে একশ ছয়টির শেয়ারদর বেড়েছে, আর মাঝারি মানের কোম্পানিগুলোর মধ্যে পঁয়ষট্টিটির দাম বেড়েছে। এমনকি লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ গ্রুপের কোম্পানিগুলোর মধ্যেও পঁচাত্তরটির শেয়ারদর ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার প্রভাবে ঢাকার প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় পঞ্চান্ন পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার পাঁচশ ছিয়ানব্বই পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর পাশাপাশি বাছাই করা কোম্পানির সূচক ডিএসই-৩০ ষোলো পয়েন্ট বেড়ে দুই হাজার একশ বাইশ পয়েন্টে এবং শরিয়াহ সূচক দশ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার একশ ঊনিশ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সূচকের এই উত্থানের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। এদিন ঢাকার বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে আটশ চুয়াল্লিশ কোটি ঊনসত্তর লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় তিপ্পান্ন কোটি টাকা বেশি। এই হিসাবে গত ১৮ আগস্টের পর এটাই ঢাকার বাজারে সর্বোচ্চ দৈনিক লেনদেন।
এই বড় লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার, যার লেনদেনের পরিমাণ পঁয়ত্রিশ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এরপর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বেক্সিমকো ফার্মা এবং তৃতীয় স্থানে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং। লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আরও রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, মালেক স্পিনিং, অ্যাপেক্স স্পিনিং, এনভয় টেক্সটাইল, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ এবং সায়হাম টেক্সটাইলের মতো প্রতিষ্ঠান।
একই ধারা অনুসরণ করেছে চট্টগ্রামের বাজারও। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া একশ একানব্বইটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একশটির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে একাত্তরটির দাম কমেছে। এতে সেখানকার সার্বিক সূচক চুয়ান্ন পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে, আর লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় বেড়ে চব্বিশ কোটি টাকার বেশি হয়েছে।

