সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার ইতিবাচক ধারা নিয়েই লেনদেন শুরু করেছে দেশের দুই প্রধান শেয়ারবাজার—ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। দিনের শুরু থেকেই উভয় বাজারে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
লেনদেন শুরুর প্রথম পাঁচ মিনিটেই ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৫ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে কিছুক্ষণ পরই, সকাল ১০টা ১০ মিনিটের দিকে সূচকটি সামান্য কমে যায়—প্রায় ৬ পয়েন্টের মতো। এরপর থেকে বাজার আবার ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে এবং সকাল ১০টা ২০ মিনিটে সূচক আগের দিনের তুলনায় ২৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৬২৫ পয়েন্টে পৌঁছায়।
লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টা পর, অর্থাৎ সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে ডিএসইএক্স সূচক আরও এগিয়ে গিয়ে আগের দিনের তুলনায় ৩৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে অবস্থান করে ৫ হাজার ৬৩০ পয়েন্টে। একই সময়ে ডিএসই শরীয়াহ্ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ১১২৫ পয়েন্টে, আর ডিএসই-৩০ সূচকও ৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছায় ২১২৯ পয়েন্টে।
এই সময়ের মধ্যে ডিএসইতে মোট ১২৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট হাতবদল হয়েছে। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দরবৃদ্ধির তালিকায় ছিল ২৯০টি প্রতিষ্ঠান, দর কমেছে ৪২টির, আর ৪৩টি কোম্পানির শেয়ারদর অপরিবর্তিত থেকেছে। সংখ্যার এই বিন্যাস থেকে স্পষ্ট, বাজারে বিক্রেতার চেয়ে ক্রেতার আগ্রহই ছিল বেশি।
চট্টগ্রামের বাজারেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৪৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ১৪ হাজার ৯১৭ পয়েন্টে, এবং এরপরও সূচকের এই ঊর্ধ্বমুখী গতি অব্যাহত থাকে। একই সময় পর্যন্ত সিএসইতে মোট ২৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এখানে ১৯টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে মাত্র ৩টির এবং ৫টি কোম্পানির দর ছিল অপরিবর্তিত।
সার্বিক এই চিত্র থেকে বোঝা যাচ্ছে, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের শুরুটা বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তিদায়ক হয়েছে। উভয় বাজারেই দরবৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির সংখ্যা দরপতনের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় সামগ্রিক বাজারে একটি ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাকি দিনের লেনদেনে এই ধারা কতটা স্থায়ী হয়, সেদিকেই এখন নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।

