সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এসে আবার নেতিবাচক ধারায় ফিরে গেল দেশের প্রধান শেয়ারবাজার। বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দরপতনের তালিকা দীর্ঘ হওয়ার পাশাপাশি সূচক ও লেনদেন—দুটোই কমেছে। তবে এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই), যেখানে দরবৃদ্ধির তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান নাম লেখানোর পাশাপাশি সূচকও ইতিবাচক ধারায় ছিল।
এর আগে টানা দুই কার্যদিবস দরপতনের পর বুধবার বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। সেদিন লেনদেনও বেড়ে আটশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। এই ইতিবাচক ধারা ধরে রেখেই বৃহস্পতিবার লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে, এবং শুরুতে সূচকও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখায়। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজার আরও চাঙা হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু বেলা সাড়ে এগারোটার পর থেকেই বাজারের চিত্র পুরোপুরি পাল্টে যেতে শুরু করে। দরবৃদ্ধির তালিকা থেকে একের পর এক প্রতিষ্ঠান দরপতনের তালিকায় নাম লেখাতে থাকে, এবং এই প্রবণতা দিনের লেনদেন শেষ হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ফলে দিনশেষে দরপতনের তালিকাই দীর্ঘ হয়ে দাঁড়ায়।
দিনের লেনদেন শেষে দেখা যায়, ডিএসইতে মোট ১৫৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে দাম কমেছে ১৮৫টির, এবং ৪৮টির দর অপরিবর্তিত থেকেছে। এই দরপতনের প্রভাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ৫ হাজার ৫৭৮ পয়েন্টে। একই সঙ্গে নির্বাচিত ভালো কোম্পানিভিত্তিক ডিএসই-৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট কমে নেমে যায় ২ হাজার ১১২ পয়েন্টে, আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ১১৫ পয়েন্টে।
সূচকের পাশাপাশি কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৭৫৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ৮৮ কোটি টাকা কম—আগের দিন লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৮৪৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।
লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে একটি লিজিং কোম্পানির শেয়ার, যার লেনদেন হয়েছে প্রায় সাড়ে তেইশ কোটি টাকার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা একটি লেখনী সামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে প্রায় একুশ কোটি টাকার, এবং তৃতীয় স্থানে থাকা একটি ঔষধ প্রস্তুতকারক কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে প্রায় উনিশ কোটি টাকার। এই তালিকায় আরও ছিল টেক্সটাইল, ইস্পাত, বীমা ও ব্যাংকিং খাতের একাধিক প্রতিষ্ঠান।
তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রামের বাজারে। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৫টির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ৭৪টির এবং ২৮টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এই ইতিবাচক প্রবণতায় সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪১ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখানে লেনদেনের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ষোলো কোটি ৭২ লাখ টাকায়, যা আগের দিনের চব্বিশ কোটি ৩৩ লাখ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
দুই বাজারের এই ভিন্ন গতিপ্রকৃতি থেকে স্পষ্ট, বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি, এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি এখনও অনেকটাই অনিশ্চয়তার মধ্যে দুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

