গত সপ্তাহে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সামগ্রিক লেনদেন ও মূল্য সূচক বাড়লেও বাজার মূলধন কমেছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার দিনই মূল্য সূচক নিম্নমুখী থাকলেও সপ্তাহ শেষে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লেখানো প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাই বেশি ছিল।
লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আড়াইশর বেশি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে একশর বেশি প্রতিষ্ঠানের, এবং প্রায় ত্রিশটি প্রতিষ্ঠানের দাম অপরিবর্তিত থেকেছে।
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ছয় লাখ নব্বই হাজার কোটি টাকায়, যা তার আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় আঠারোশ কোটি টাকা কম।
মূলধন কমলেও প্রধান মূল্য সূচক সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে প্রায় পয়েন্ট শূন্য আট শতাংশের কিছু বেশি হারে। শরিয়াহভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সূচকও একই ধরনের হারে বেড়েছে, আর নির্বাচিত ভালো কোম্পানিগুলোর সূচকে বৃদ্ধি হয়েছে সামান্য কম হারে।
লেনদেনের গতিও বেশ বেড়েছে গত সপ্তাহে। প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেনের পরিমাণ আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় একচল্লিশ শতাংশ বেড়ে সাড়ে সাতশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
টাকার অঙ্কে সপ্তাহজুড়ে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে একটি ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে, যা মোট লেনদেনের প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ। এর পরের অবস্থানে ছিল একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং একটি ওষুধ কোম্পানি। লেনদেনের শীর্ষ দশের তালিকায় আরও ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান, টেক্সটাইল খাতের একাধিক কোম্পানি, স্টিল বিল্ডিং এবং ভোগ্যপণ্য খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
বিশ্লেষকদের মতে, মূল্য সূচক ও লেনদেনের এই উর্ধ্বগতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা ফিরে আসার লক্ষণ হতে পারে, তবে বাজার মূলধন কমে যাওয়ার বিষয়টি নির্দেশ করে যে বড় মূলধনী কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর এখনও চাপে রয়েছে।

