বিদ্যমান ঋণ পুনর্গঠন করে আর্থিক চাপ কমাতে বড় একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে জুতা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার। প্রতিষ্ঠানটি রিডিমেবল প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু করে সর্বোচ্চ ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়েছে বলে মূল্য সংবেদনশীল তথ্যে জানানো হয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে এই শেয়ার ইস্যু কার্যকর হতে হলে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
একই সভায় লভ্যাংশ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে পরিচালনা পর্ষদ। এর অর্ধেক অর্থাৎ ১৫ শতাংশ দেওয়া হবে নগদ অর্থে—১০ টাকা ফেস ভ্যালুর প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে দেড় টাকা করে। বাকি ১৫ শতাংশ দেওয়া হবে বোনাস শেয়ার হিসেবে, অর্থাৎ প্রতি ১০০টি শেয়ারের বিনিময়ে অতিরিক্ত ১৫টি শেয়ার পাবেন বিনিয়োগকারীরা।
ব্যবসায়িক ফলাফলের দিক থেকে কোম্পানিটি বছরজুড়ে মুনাফা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তাদের শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৯১ পয়সা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৬ টাকা ৯০ পয়সা—অর্থাৎ আয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের পুনর্মূল্যায়িত নিট সম্পদমূল্যও বেড়েছে, যা আগের বছরের ৩৪৯ টাকা ৩৫ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৫৫ টাকা ২৫ পয়সা।
তবে এই ইতিবাচক চিত্রের পাশাপাশি একটি উদ্বেগজনক দিকও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। কোম্পানির নগদ প্রবাহে বড় ধরনের নেতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে—শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো এখন ঋণাত্মক ৯০ টাকা ৯৭ পয়সা, যেখানে আগের অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ধনাত্মক ৪৫ টাকা ১৯ পয়সা। অর্থাৎ মুনাফা বাড়লেও প্রকৃত নগদ অর্থের প্রবাহে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা কোম্পানির তরলতা পরিস্থিতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে।
লভ্যাংশ, নতুন শেয়ার ইস্যু এবং কোম্পানির চার্টারে প্রয়োজনীয় সংশোধনী—এই সবকিছুর জন্য শেয়ারহোল্ডারদের চূড়ান্ত অনুমোদন নেওয়া হবে আগামী ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক সাধারণ সভায়। এই সভায় অংশগ্রহণ এবং লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণের জন্য রেকর্ড ডেট ধার্য করা হয়েছে ১৫ অক্টোবর, অর্থাৎ ওই দিন যাঁদের নামে শেয়ার থাকবে, তাঁরাই এই সুবিধা পাবেন।

