সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই আবার হতাশার চিত্র ফুটে উঠল দেশের পুঁজিবাজারে। রোববার লেনদেন শেষে দেখা যায়, দুই শেয়ারবাজারেই দরপতনের তালিকা ভারী হয়ে উঠেছে, যার প্রভাবে সূচক নেমেছে উল্লেখযোগ্য হারে।
দিনের শুরুটা অবশ্য ভিন্ন ছিল। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়তির দিকে থাকায় প্রথমদিকে সূচকও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল, বাজার হয়তো এবার ইতিবাচক ধারায় ফিরবে। কিন্তু প্রথম ঘণ্টা পেরোতেই দৃশ্যপট পুরোপুরি পাল্টে যায়। একের পর এক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর হারাতে শুরু করে, আর এই প্রবণতা দিনের শেষ ভাগে আরও প্রকট আকার নেয়। শেষ পর্যন্ত দরপতনের তালিকাই বড় হয়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর আগের সপ্তাহেও বাজারে ছিল টানা অস্থিরতা। প্রথম দুই কার্যদিবস দরপতনের পর মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ ইতিবাচক ধারায় ফেরে বাজার, লেনদেনও ছাড়িয়ে যায় আটশো কোটি টাকা। তবে সেই ধারা বেশিদিন টেকেনি, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসেই ফের নেমে আসে দরপতন।
প্রধান শেয়ারবাজারের হিসাব অনুযায়ী, রোববার মোট পঁচাত্তরটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, সেখানে দাম কমেছে দুইশো সাতাত্তরটির। বাকি ছত্রিশটির দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ভালো মানের বা বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র—মাত্র ষাটটির দাম বেড়েছে, বিপরীতে একশো আঠারোটির দাম কমেছে। মাঝারি মানের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র ছয়টির শেয়ারদর বাড়লেও কমেছে আটষট্টিটির। আর লভ্যাংশ না দেওয়া দুর্বল কোম্পানিগুলোর মধ্যে নয়টির দাম বাড়লেও একানব্বইটির দরপতন হয়েছে।
সার্বিক এই দরপতনের প্রভাবে প্রধান মূল্যসূচক আগের কার্যদিবসের তুলনায় পঁয়তাল্লিশ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার পাঁচশো বত্রিশ পয়েন্টে নেমেছে। নির্বাচিত ভালো কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত সূচকটিও বারো পয়েন্ট কমে দুই হাজার নিরানব্বই পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আর শরিয়াহভিত্তিক সূচক কমেছে সমান বারো পয়েন্ট, অবস্থান করছে এক হাজার একশো তিন পয়েন্টে।
শুধু সূচক নয়, কমেছে টাকার অঙ্কে মোট লেনদেনও। এদিন প্রধান শেয়ারবাজারে মোট লেনদেন হয়েছে সাতশো সাতাশ কোটি টাকার কিছু বেশি, যেখানে আগের কার্যদিবসে এই অঙ্ক ছিল সাতশো ছাপ্পান্ন কোটি টাকার বেশি। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ঊনত্রিশ কোটি টাকা।
লেনদেনের শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার সবচেয়ে বেশি হাতবদল হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় পঁচিশ কোটি টাকা। এরপরের অবস্থানে ছিল একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, প্রায় একুশ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে। তৃতীয় স্থানে থাকা আরেকটি ওষুধ কোম্পানির লেনদেনের পরিমাণও ছিল প্রায় কাছাকাছি। এছাড়া শীর্ষ দশের তালিকায় ছিল বস্ত্র, বিমা ও স্পিনিং খাতের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
অন্যদিকে দ্বিতীয় শেয়ারবাজারেও দেখা গেছে একই রকম নেতিবাচক প্রবণতা। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া মোট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছেষট্টিটির দাম বাড়লেও নব্বইটির দাম কমেছে, আর তেইশটির দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এর ফলে সেখানকার সার্বিক মূল্যসূচক কমেছে একশো আটাশ পয়েন্ট। তবে টাকার অঙ্কে সেখানে লেনদেন বরং বেড়েছে, প্রায় ঊনচল্লিশ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যেখানে আগের কার্যদিবসে ছিল প্রায় সতেরো কোটি টাকা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার এমন উত্থান-পতনের ধরন বিনিয়োগকারীদের মনে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন তারা।

