সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে শেয়ারবাজারে কিছুটা স্বস্তির বাতাস বইতে শুরু করেছে। সম্প্রতি যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম অনেকটাই কমে গিয়েছিল, সেগুলো অপেক্ষাকৃত সস্তা ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠায় বিনিয়োগকারীরা নতুন করে কেনার দিকে ঝুঁকছেন। তবে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সাম্প্রতিক ঘোষণার কারণে বাজারে এক ধরনের প্রচ্ছন্ন সতর্কতাও কাজ করছে। একদিকে দেশের ভেতরের জ্বালানি খরচের উত্তাপ, অন্যদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমার কারণে কিছুটা স্বস্তি, এই দুইয়ের টানাটানিতেই মূলত সোমবার সকালে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দিয়ে লেনদেন শুরু হয়েছে।
ভীতির মাঝেও সুযোগ খুঁজছেন বিনিয়োগকারীরা
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই কোম্পানিগুলোর পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়ে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে মুনাফায়। অর্থনীতির এই সাধারণ সমীকরণের কারণেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের সতর্কতা কাজ করছে। কিন্তু এর বিপরীতে একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বর্তমানে নিম্নমুখী। বিশ্ববাজারের এই পতন দেশের বাজারে জ্বালানি খরচের নেতিবাচক প্রভাবকে কিছুটা হলেও প্রশমিত করতে পারে. এমনটাই আশা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। আর ঠিক এই হিসেব-নিকেশ থেকেই সকালে লেনদেনের প্রথম ঘণ্টায় বাজারে সতর্কতার পাশাপাশি কেনার আগ্রহ দেখা গেছে। প্রথম ঘণ্টায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মোট টার্নওভার বা লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকায়।
লেনদেনের প্রথম ঘণ্টার এই সতর্ক অথচ ইতিবাচক মনোভাবের সরাসরি প্রভাব পড়েছে মূল সূচকে। সকাল ১১টা পর্যন্ত ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স (DSEX) ১০ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৫৪৩ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। বিনিয়োগকারীরা মূলত বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু খাতের শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন, যার ফলে সামগ্রিকভাবে সূচক ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। মূল সূচকের পাশাপাশি ব্লু-চিপ শেয়ারগুলোর প্রতিও আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। ডিএস৩০ (DS30) সূচক এ সময়ে ১ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৯৯ পয়েন্টে এবং শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএস (DSES) ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১০৬ পয়েন্টে উঠে আসে।
কারা টানছে বাজারের চাকা?
সামগ্রিক লেনদেনের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এদিন বাজারে দাম কমার চেয়ে দাম বাড়া কোম্পানির সংখ্যাই বেশি ছিল। প্রথম ভাগে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৯৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। এর বিপরীতে দাম কমেছে ১০৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৮১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে যে, বাজারে একচেটিয়া বিক্রির চাপ নেই, বরং বিনিয়োগকারীরা সুযোগ বুঝে নিজেদের পোর্টফোলিও নতুন করে সাজাচ্ছেন। নির্দিষ্ট কোম্পানির কথা বলতে গেলে এদিন সকালের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন। লেনদেনের প্রথম প্রহরেই কোম্পানিটির প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা তাদেরকে টার্নওভারের তালিকার একেবারে শীর্ষে জায়গা করে দিয়েছে।
রাজধানী ঢাকার বাজারের এই ইতিবাচক আবহ ছড়িয়ে পড়েছিল বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বাজারেও। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) এদিন লেনদেনের শুরুটা হয়েছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ে। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই (CASPI) ৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৭৮৯ পয়েন্টে উন্নীত হয়। পাশাপাশি সিএসইএসসিএক্স (CSCX) সূচকটিও ১০ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ৬৭ পয়েন্টে অবস্থান নেয়। সব মিলিয়ে দেশের শেয়ারবাজার এখন অভ্যন্তরীণ নীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম শেষ পর্যন্ত কোম্পানিগুলোর ব্যালেন্স শিটে কতটা আঘাত করবে, তা নিয়ে শঙ্কা থাকলেও আপাতত সস্তা শেয়ারের প্রলোভন আর বিশ্ববাজারের স্বস্তিতেই ভরসা রাখছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

